কোচ থেকে খেলোয়াড়, তাহমিদের অবিশ্বাস্য গল্প!

স্যাম কনস্টাসের কোচ থেকে একেবারে ডিপিএলের মঞ্চে। ক্রিকেটের গল্পে এমন বাঁক খুব বেশি দেখা যায় না—যেখানে কোচ হঠাৎ করেই নেমে পড়েন খেলোয়াড়ের ভূমিকায়!

স্যাম কনস্টাসের কোচ থেকে একেবারে ডিপিএলের মঞ্চে। ক্রিকেটের গল্পে এমন বাঁক খুব বেশি দেখা যায় না—যেখানে কোচ হঠাৎ করেই নেমে পড়েন খেলোয়াড়ের ভূমিকায়! তবে এমনটাই ঘটেছে। আর যিনি ঘটিয়েছেন তাঁর নাম তাহমিদ ইসলাম।

সিডনির কোচিং সেন্টার থেকে ২২ গজে, পরিকল্পনার বোর্ড থেকে বাস্তব ম্যাচে—তাহমিদের এই যাত্রা যেন এক সিনেমার দৃশ্য। যিনি এতদিন অন্যের ব্যাটিং গড়েছেন, এবার নিজেই ব্যাট হাতে নামলেন লড়াইয়ে। আর সেটাও কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, সরাসরি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক!

বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স আর গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচে হঠাৎই দেখা মিলল এই নামের। যিনি অস্ট্রেলিয়ার তরুণ সেনসেশন স্যাম কনস্টাসের ব্যক্তিগত ব্যাটিং কোচ! ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে কনস্টাসের ঝলমলে টেস্ট অভিষেকের পেছনে যার বড় অবদান, সেই তাহমিদ ইসলামই এখন বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ মঞ্চে।

অভিষেকটা অবশ্য খুব একটা রঙিন হয়নি পরিসংখ্যানের দিক থেকে। বল হাতে ৫ ওভারে ৩৪ রান, উইকেট শূন্য। ব্যাট হাতে ছয় বলে নয় রান।

কিন্তু ক্রিকেটে সব গল্প সংখ্যায় মাপা যায় না। তাহমিদের গল্পটা তার চেয়েও অনেক বড়। একজন কোচ, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ তারকাকে গড়ে তুলেছেন, সেই মানুষই আবার নিজে মাঠে নেমে প্রমাণ করতে চান নিজের সামর্থ্য।

তাহমিদের পরিচয়টা বহুস্তরীয়। জন্ম বাংলাদেশে, ক্যারিয়ার গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনি প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলেছেন, ইংল্যান্ডে এসেক্স আর ইয়র্কশায়ারের সঙ্গেও ছিলেন যুক্ত। ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নেট বোলার হিসেবেও কাজ করেছেন। আবার যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের দল সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের সঙ্গেও রয়েছে তার কোচিং অভিজ্ঞতা।

সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি কনস্টাসের মেন্টর। মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকে ছেলেটিকে গড়ে তুলেছেন। ব্যাটিংয়ের টেকনিক থেকে মানসিক দৃঢ়তা—সবকিছুতেই কাজ করেছেন সূক্ষ্মভাবে। এমনকি কনস্টাসের বিখ্যাত “রিভার্স র‍্যাম্প” শট—যেটা জাসপ্রিত বুমরাহর মতো বোলারের বিপক্ষে খেলেছেন—সেটাও নাকি তাহমিদের সঙ্গে পাঁচ বছরের পরিশ্রমের ফল!

তাহমিদ শুধু কোচ নন, একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। ‘এলিভেট ক্রিকেট কোচিং’ নামে নিজের একাডেমি গড়ে তরুণদের পথ দেখাচ্ছেন। আবার মাঠে নেমে নিজেই লিখছেন নিজের গল্প।সব ক্রিকেটার কোচ হয়—কিন্তু সব কোচ আবার ক্রিকেটার হয়ে ফিরে আসতে পারে না। তাহমিদ ইসলাম পেরেছেন। আর সেই কারণেই তার গল্পটা আলাদা, ব্যতিক্রমী, আর ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক।

Share via
Copy link