নার্ভাস নাইন্টিজে পা হড়কালো মমিনুলের!

৮০ পার করেছেন কিন্তু শতকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি এমন ঘটনা এই নিইয়ে এই বাঁহাতির ক্যারিয়ারে ঘটলো অষ্টম বারের মতো।

সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাঁকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ধরা হয়। মনে করা হয় টেস্টটাকে যিনি আসলেই টেস্টের মতো করে খেলতে পারেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিরপুরে প্রথম দিনে নার্ভাস নাইন্টিজে ফিরলেও নিজের জাত যেন এর আগে আরও একবার চেনালেন মমিনুল হক।  

এই ম্যাচে নামার আগেও ব্যাট হাতে ঠিকই ঝলক দেখাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ডন ব্র্যাডম্যান হিসেবে খ্যাত মমিনুল। আগের তিন ইনিংসেই পেয়েছিলেন অর্ধশতকের দেখা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রইলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রীষ্মের দুপুরেও। 

দুই ওপেনারের ব্যর্থতার দিনে ইনিংস শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই ২২ গজে ডাক আসে মমিনুলের। তবে, বৈশাখের দাবদাহের দিনে তাঁর ব্যাট থেকে যেন প্রশান্তিময় বাতাস ভেসে আসছিলো। দলের প্রয়োজন মতোই খেলে গেছেন পুরো ইনিংস ধরে।

অন্য পাশে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত করে গেছেন পাকিস্তানি বোলারদের। সেখানে নিজের চিরাচরিত কাজটাই করে যেতে দেখা গেছে মমিনুলকে। পিচে এমনভাবে টিকে ছিলেন যেন আউট হলেই ইতি ঘটবে জীবনের। তবে, শুধু ডিফেন্স করে গেছেন এমন অপবাদ দেওয়া যাবে না। বাজে বল পেলে খেলেছেন দর্শনীয় একেকটি শট। 

১০২ বল খেলে তুলে নিয়েছিলেন লাল বলের ক্রিকেট নিজের ২৬তম অর্ধশতক। এরপরেও থেমে থাকেননি, ধীরে ধীরে নিজের ইনিংস যেমন বড় করতে থেকেছেন তেমনি বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন বড় সংগ্রহের দিকে। ২০০ বল খেলে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে ৯১ রানে। এই নিয়ে শেষ চার ইনিংসের তিনবার ৮০-র ঘর পার করে সাজঘরে ফিরেছেন মমিনুল।

৮০ পার করেছেন কিন্তু শতকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি এমন ঘটনা এই নিইয়ে এই বাঁহাতির ক্যারিয়ারে ঘটলো অষ্টম বারের মতো। সেঞ্চুরির এত কাছেও গিয়েও মমিনুলের ফিরে যাওয়া যেন অপেক্ষার পলক বৃদ্ধি করে। তবে, শতক স্পর্শ করতে না পারলেও বাংলাদেশ শুরুতে যে ইনিংস বিপর্যয়ের ভইয় পেয়েছিল তা থেকে ঠিকই বাঁচিয়ে দিয়েছেন মমিনুল। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link