নিজের দেওয়া অস্ত্রেই বিদ্ধ হলেন বিরাট

কে জানত, তাঁর দেওয়া মহামূল্যবান পরামর্শই তাঁর উইকেট হারানোর কারণ হবে!

মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে এক চুলও ছাড় দিতে রাজি থাকেন না বিরাট কোহলি। কিন্তু বাইশ গজের বাইরে তিনি আবার তরুণ প্রতিভাদের জন্য পথপ্রদর্শক। নতুনদের জন্য তাঁর দুয়ার সবসময় খোলা। কে জানত, তাঁর দেওয়া মহামূল্যবান পরামর্শই তাঁর উইকেট হারানোর কারণ হবে! ক্রিকেটের অদ্ভুত গল্পগাঁথা এমনভাবেই লেখা হয়।

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের তরুণ প্রতিভা প্রিন্স যাদব যখন বিরাটের মুখোমুখি হচ্ছিলেন, তখন তার কানে বিরাটেরই পুরনো কিছু কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। যে বিরাটের কাছ থেকে তিনি পরামর্শ নিয়েছিলেন কীভাবে নিখুঁত লেংথে বল করতে হয়, সেই বিরাটের উইকেটটাই সেই লেংথে বল করেই তিনি তুলে নিলেন।

১৪০ কিলোমিটার গতির এক বিষাক্ত ডেলিভারি বিরাটের পরামর্শ মেনেই ঠিক সেই ‘অফ লেংথ’ এ ফেললেন তিনি। বলটি পিচে পড়ে সামান্য ভেতরে ঢুকে আসতেই পরাস্ত হলেন মহাতারকা। ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম আইপিএলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হলো বিরাটকে।

উইকেট শিকারের পর নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি প্রিন্স। তার মনে পড়ছিল অতীতের সেই কথোপকথন। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচের পর আমি কেবল বিরাট ভাইয়ার সাথে কথা বলছিলাম। তিনি নিজেই আমাকে সেই গোপন মন্ত্রটা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যতক্ষণ বল লেন্থ থেকে মুভ করবে, ততক্ষণ ওই লেন্থেই বল করে যেতে।’

প্রিন্সের শুরুটা অবশ্য মোটেও রাজকীয় ছিল না। ম্যাচের প্রথম বলেই তিনি মিসফিল্ড করে রান দিয়েছিলেন। ম্যাচের শেষে প্রিন্স নিজেই বলেন, ‘প্রথম বল মিসফিল্ড করার পর আমি মনোযোগ হারাইনি। বিরাট ভাইয়ার কথাগুলো কানে বাজছিল। আমি শুধু তাঁর দেখানো লেংথটা ধরে রেখেছিলাম।’

​ক্রিকেটের এই চিরন্তন রূপকথা সম্ভবত এভাবেই তার চিত্রনাট্য সাজিয়ে রাখে। যেখানে গুরুর পরাজয়েই রচিত হয় শিষ্যের শ্রেষ্ঠ জয়গান। বাইশ গজের এই নিষ্ঠুর অথচ মোহময় রঙ্গমঞ্চে মাঝে মাঝে এমন এক মুহূর্ত আসে, যখন মহাগুরুর পরাজয়ই হয়ে ওঠে এক যোগ্য শিষ্যের শ্রেষ্ঠত্বের অভিজ্ঞান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link