ফের ফিরে এসেছেন কার্তিক ত্যাগী!

বলা হতো ভারত হয়তো আরেকজন ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার পেয়ে গেছে। তবে কালের বিবর্তনে সম্ভাবনার বীজ সুমিষ্ট ফলে পরিণত হয়নি। এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই কি তবে তাঁর পূর্ণজন্ম ঘটছে।

একটা সময় ভারতীয় পেস বোলিংয়ের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর একটির নাম ছিল কার্তিক ত্যাগী। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতিতে বল করা সেই ছেলেটাকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় রকমের প্রত্যাশা। বলা হতো ভারত হয়তো আরেকজন ভয়ঙ্কর ফাস্ট বোলার পেয়ে গেছে। তবে কালের বিবর্তনে সম্ভাবনার বীজ সুমিষ্ট ফলে পরিণত হয়নি। এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই কি তবে তাঁর পূর্ণজন্ম ঘটছে।

চোটের পর চোট তাঁর ক্যারিয়ারের গতিটাই থামিয়ে দেয়। একসময় যে ছেলেটাকে নিয়ে ভারতের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছিল, সেই ছেলেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকেন আলোচনার বাইরে। সুযোগের দরজা বন্ধ হতে থাকে, ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেন, আর মানুষও ভুলতে শুরু করে তাঁর নাম। কিন্তু ক্রিকেট মাঝে মাঝে দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। আর সেই সুযোগটাই যেন নতুন করে জীবন এনে দিয়েছে কার্তিক ত্যাগীর ক্যারিয়ারে।

এই মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে একের পর এক চোট না এলে হয়তো তাঁর একাদশে সুযোগই মিলত না। কিন্তু সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেটাকে ধীরে ধীরে নিজের করে নিতে শুরু করেছেন তিনি। এখনও হয়তো পুরোপুরি পুরোনো আগুনে ফেরেননি, তবে ম্যাচ ধরে ধরে উন্নতি করছেন। নিজের জায়গাটা আবার খুঁজে নিচ্ছেন। আবারও বোঝাচ্ছেন, প্রতিভা কখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।

দিল্লির বিপক্ষে সেটারই আরেকটা প্রমাণ দিলেন তিনি। চার ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন দুই উইকেট। শুধু উইকেট নয়, তাঁর বোলিংয়ে ছিল নিয়ন্ত্রণ, ছিল আত্মবিশ্বাস, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই হারিয়ে যাওয়া ধার ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত।

২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই প্রথম বড় করে আলোচনায় আসেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ছয় ম্যাচে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। শুধু সংখ্যাই নয়, তাঁর বোলিংয়ের আগ্রাসন ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালে যদিও খুব বড় প্রভাব রাখতে পারেননি, তবে তার আগেই নিজের নামটা পৌঁছে দিয়েছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। চাপের মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে এসেছেন অনেকবার। সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল কার্তিক ত্যাগীর স্বপ্নযাত্রা।

এরপর খুব দ্রুতই আইপিএলে অভিষেক। ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পেসারদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল একদম ওপরে। কিন্তু ক্রিকেট কখনও শুধু প্রতিভার গল্প নয়, শরীরও এখানে বড় এক চরিত্র। আর সেই শরীরই যেন বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ত্যাগীর সঙ্গে।

একসময় যে ছেলেটাকে ভারতীয় ক্রিকেটের পরবর্তী বড় ফাস্ট বোলিং সম্পদ ভাবা হতো, সে এখন আবার নিজের গল্পটা নতুন করে লিখতে শুরু করেছে। হয়তো এই পথটা সহজ হবে না। হয়তো সামনে আরও বাধা অপেক্ষা করছে। কিন্তু কার্তিক ত্যাগী অন্তত আবার লড়াইটা শুরু করেছেন।

Share via
Copy link