ইনজুরির মেঘে ঢাকা বিশ্বকাপ!

কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে লামিন ইয়ামাল, বিশ্বের বড় বড় তারকাদের ইনজুরি এখন জাতীয় দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।  

মাত্র পাঁচ সপ্তাহ পরেই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আয়োজিত হতে যাওয়া এই আসর নিয়ে যখন আগ্রহ দিনে দিনে বাড়ছে, ঠিক তখনই ইনজুরির কালো মেঘ ফুটবলবিশ্বকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে লামিন ইয়ামাল, বিশ্বের বড় বড় তারকাদের ইনজুরি এখন জাতীয় দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।  

খেলোয়াড় এবং কোচরা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ম্যাচের চাপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের পরিধি বৃদ্ধি এবং ক্লাব বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট খেলোয়াড়দের শরীরকে যন্ত্রে পরিণত করেছে। আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা হিসেবে। অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং চাপের কারণেই বড় আসরের আগে এত বেশি ইনজুরি দেখা দিচ্ছে। 

ফুটবলের সবুজ গালিচায় যখন গতির ঝড় তোলার কথা, তখন অনেক তারকার ঠিকানা এখন হাসপাতালের সাদা বিছানা। কিলিয়ান এমবাপ্পের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট ফরাসি শিবিরে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। যদিও আশা করা হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড দ্রুতই ফিরবেন, কিন্তু বিশ্বকাপের আগে প্রতিটা ছোট চোটই যেন একেকটি অশনিসংকেত।  

বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল পেশির চোটে মাঠের বাইরে। স্পেনের এই কিশোর নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে ঘিরে দেখেছিলেন বহু রঙিন স্বপ্ন। ভেবেছিলেন নিজের দুই পায়ের জাদু দিয়ে সমস্ত আলো কেড়ে নিবেন নিজের দিকে। কিন্তু, ইনজুরি যেন তাঁর সব স্বপ্নের সত্যি হওয়ার পথে দাঁড়াতে চায় বাধা হয়ে। 

সাম্প্রতিক সময়ে যেসব তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের মাঠে আলাদা করে নজর কেড়েছেন নিজেদের প্রতিভার জোরে, তাদের মধ্যে এস্তাভিও অন্যতম। সেলেসাওদের কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি যেখানে ভেবেছিলেন চেলসির জার্সি গায়ে দেওয়া এই তরুণকে তুরুপের তাস বানাবেন সেখানে তাঁর হ্যামস্ট্রিংইয়ের ইনজুরি জল ঢেলে দিতে পারে সমস্ত পরিকল্পনায়।

মিশন হেক্সা সামনে  নিয়ে মাঠে নামতে যাওয়া ব্রাজিলের চিন্তা শেষ নয় এখানে। দলটির রক্ষণে আর আক্রমণভাগের স্তম্ভ হওয়ার কথা ছিল রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা- এডার মিলিতাও আর রদ্রিগোর। কিন্তু, ইনজুরির কারণে এদের কাউকেই হলুদ জার্সি গায়ে  মাঠে নামতে দেখা যাবে না।

নিজেদের পুরনো আধিপত্য ফেরানোর অপেক্ষায় থাকা জার্মানির সার্জ ন্যাব্রির অ্যাডাক্টর ইনজুরি তাকে দর্শক বানিয়ে দিয়েছে মাঠের বাইরে। নেদারল্যান্ডসের জাভি সিমন্স কিংবা আর্জেন্টিনার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, হোয়াকিন পানিচেল্লির মতো তরুণদের এসিএল ইনজুরি কেড়ে নিয়েছে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামার সুযোগ।  

মিশরের মোহাম্মদ সালাহ কিংবা স্পেনের রদ্রিদের মতো কিছু তারকা হয়তো শেষ মুহূর্তে সেরে উঠে মাঠে ফিরবেন, কিন্তু ইনজুরির এই দীর্ঘ মিছিল ফুটবল প্রেমীদের মনে বড় এক শূন্যতা তৈরি করছে। মাঠের লড়াই যতটা না প্রতিপক্ষের সাথে, তার চেয়েও বড় লড়াই এখন নিজের শরীরের সাথে টিকে থাকার। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link