ব্র্যাডম্যান-হেডলিদের পাশে শান্ত

পঞ্চাশ পেরিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানোটা কেবল সামর্থ্য নয়। এক অনন্য মানসিক সাধনার বিষয়। সেই সাধনায় নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেকে নিয়ে গেছেন এক কিংবদন্তিতূল্য উচ্চতায়।

পঞ্চাশ পেরিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছানোটা কেবল সামর্থ্য নয়। এক অনন্য মানসিক সাধনার বিষয়। সেই সাধনায় নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেকে নিয়ে গেছেন এক কিংবদন্তিতূল্য উচ্চতায়। যেখানে তার নামের পাশে এখন উচ্চারিত হচ্ছে স্যার ডন ব্র্যাডম্যান কিংবা জর্জ হেডলিদের মতো মহীরুহদের নাম।

মিরপুরের সবুজ গালিচায় পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন তিনি তার নবম টেস্ট শতকটি পূর্ণ করলেন, তখন সেটি কেবল একটি ইনিংস হয়ে থাকেনি, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় যোগ করেছে এক সোনালী অধ্যায়।

পরিসংখ্যানের আয়নায় তাকালে শান্তর এই কীর্তি আরও বিস্ময়কর মনে হয়। টেস্টে অন্তত দশবার পঞ্চাশ পেরিয়েছেন এমন ব্যাটারদের মধ্যে সেঞ্চুরি কনভারসনে শান্তর অবস্থান তৃতীয়। টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৪ বার পঞ্চাশ রানের গণ্ডি পেরিয়ে নয় বারই তিনি সেঞ্চুরি উৎসবে মেতেছেন।

অর্থাৎ, হাফ-সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে তার সাফল্যের হার বর্তমানে ৬৪.৩০ শতাংশ। এই অবিশ্বাস্য তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ক্রিকেটের মহাজক স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, যার রূপান্তরের হার ৬৯ শতাংশ। এরপরই ৬৬.৭০ শতাংশ হার নিয়ে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি।

দেশের টেস্ট ইতিহাসে দৃষ্টিপাত করলেও শান্তর অবস্থান এখন অনন্য পর্যায়ে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি এখন তার। নয়টি সেঞ্চুরির মধ্যে পাঁচটিই এসেছে নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে।

এতকাল চারটি সেঞ্চুরি নিয়ে এই রেকর্ডের চূড়ায় ছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু শান্ত মাত্র ১৭ টেস্টেই মুশফিকের সেই দীর্ঘদিনের রাজত্বের অবসান ঘটালেন শান্ত।

২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচেই ১০৫ রানের জয়সূচক ইনিংস খেলে শুরু করেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে গলে টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি এবং সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে শতক। কাঁধে নেতৃত্বভার এলেই যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেন তিনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link