আইপিএলে এআই দিয়ে টিকিট জালিয়াতি

লখনৌ সুপার জায়ান্টস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দ্বৈরথের আড়ালে টিকিট জালিয়াতির পর্দাফাঁস করল লখনৌ পুলিশ।

লখনৌর একানা স্টেডিয়ামে তখন জয়ের উন্মাদনা। কিন্তু এই খুশির আড়ালে বেরিয়ে আসে এক অসাধু চক্রের কারসাজি। আইপিএলে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্রিকেট ভক্তদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। লখনৌ সুপার জায়ান্টস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দ্বৈরথের আড়ালে টিকিট জালিয়াতির পর্দাফাঁস করল লখনৌ পুলিশ।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ‘পিটিআই’ এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ‘চ্যাটজিপিটি’  এবং বিভিন্ন উন্নত গ্রাফিক ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে হুবহু আসল টিকিটের মতো জাল টিকিট তৈরি করছিল।

লখনৌ পুলিশের ডিসিপি অমিত কুমার আনন্দ জানিয়েছেন, আরসিবি বনাম এলএসজি ম্যাচের সময় স্টেডিয়ামের গেটে এক ব্যক্তির কাছে টিকিটটি ভুয়া বলে সন্দেহ হলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

পরবর্তীতে লখনৌ সাইবার সেল ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলা থেকে আসা চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সহজ সরল ক্রিকেট ভক্তদের আবেগকে পুঁজি করে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই জালিয়াতি সাজিয়েছিল তারা।

ডিজিটাল যুগের আশীর্বাদকে কীভাবে অভিশাপে রূপান্তর করা যায়, এই চক্রটি তারই এক নিকৃষ্ট উদাহরণ। কেবল সাধারণ ফটোকপি নয়, বরং এআই এর সূক্ষ্ম কারুকাজে টিকিটের কিউআর কোড এবং হলোগ্রাম সদৃশ জলছাপগুলোকেও তারা নকল করেছিল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ছোঁয়ায় তৈরি এই টিকিটগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে, সাধারণ চোখে সেগুলোকে জাল বলে চেনার উপায় ছিল সামান্যই। ক্রিকেট উন্মাদনাকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই আধুনিক কৌশল খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল একটি সাধারণ জালিয়াতি নয়, বরং বড় মাপের ইভেন্টগুলোর নিরাপত্তা বলয়ে এক বিশাল ছিদ্র। ভবিষ্যতে আইপিএলের মতো মেগা ইভেন্টগুলোতে কাগজের টিকিটের বদলে আরও উন্নত ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link