কখনও চোট, কখনও সমালোচনা – গত কয়েক বছর যেন নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ারকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ গল্প। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর দেখা যাবে না তাঁকে। কিন্তু সময় যেন আবারও নতুন মোড় নিল।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির এক ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, নেইমার এখনও সেলেসাওদের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ও বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতার কারণেই তাঁকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

সম্প্রতি প্রেস কনফারেন্সে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করতে গিয়ে নেইমার সম্পর্কে আনচেলত্তি বলেন, ‘তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং এই বিশ্বকাপেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু বাকি ২৫ জন খেলোয়াড়ের মতোই তাঁরও ঠিক একই দায়িত্ব থাকবে। তিনি খেলতেও পারেন, আবার নাও খেলতে পারেন। তিনি বেঞ্চ থেকে শুরু করে পরে মাঠে নামতেও পারেন।’
২০২৩ সালে গুরুতর হাঁটুর চোটে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। আল-হিলালে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও পরে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পান তিনি। নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ার পর গোল ও অ্যাসিস্টে আবারও প্রভাব দেখাতে শুরু করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা নিয়ে অবশ্য ব্রাজিল জুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক ছিল। বয়স, ইনজুরি এবং সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। তবে আনচেলত্তি মনে করেন বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার মূল্য সবসময়ই আলাদা।
নেইমার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দলের সবাই তাকে খুব পছন্দ করে। সে দারুণ একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের সেরা ফর্মকে বের করে আনতে সাহায্য করে।’

বিশ্বকাপে এটি হতে যাচ্ছে নেইমারের চতুর্থ অংশগ্রহণ। এর আগে ২০১৪, ২০১৮, ও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন তিনি। এবারও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও এন্দ্রিকের পাশে থেকে আক্রমণভাগে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন ভক্তদের মাঝে একটাই প্রশ্ন – এটাই কি তাহলে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ ? আর সেই শেষ মঞ্চে নেইমার কি এনে দিতে পারবেন ব্রাজিলের কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ? ফুটবল বিশ্ব এখন সেই উত্তর জানার অপেক্ষায়।











