বৈভব সুরিয়াভানশি নায়ক, বোলাররা দর্শক!

প্রথম ১০ বল থেকে এলো মাত্র পাঁচ রান। তবে সবসময় সকালের সূর্য দেখে দিনটা কেমন যাবে সেটা বোঝা যায় না। আসল ঝড় যে জমিয়ে রেখেছিলেন পরবর্তী ২৮ বলের জন্য।

প্রথম ১০ বলে মাত্র পাঁচ রান, পরের ২৮ বলে ৮৮। বৈভব সুরিয়াভানশি আসলে কী করতে পারেন সেটা আরও একবার বুঝিয়ে গেলেন। এখানে নায়কের ভূমিকায় কেবলই তিনি, বাকিরা সবাই দর্শক। ক্রিকেট মাঠে এখন কেবলই একনায়কতন্ত্র চলবে, যার শাসক ১৫ বছরের বিস্ময় বালক। ৩৮ বলে ৯৩ রানের তাণ্ডব চালিয়ে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, বাইশ গজটা এখন থেকে একান্তই তাঁর।

রাজস্থান রয়্যালসের সামনে একটা পথই খোলা ছিল। প্লে-অফে যেতে হলে জিততে হবেই। হারলে সুযোগ একেবারেই শেষ এমন না, তবে চেয়ে থাকতে হবে ভাগ্যের দিকে। বৈভব সেটাতে রাজি হলেন না। ভাগ্যটাকে নিজের ব্যাট দিয়েই লিখলেন।

২২১ রানের লক্ষ্যে নেমে বৈভবের শুরুটা অবশ্য বৈভবসুলভ হলো না। প্রথম ১০ বল থেকে এলো মাত্র পাঁচ রান। তবে সবসময় সকালের সূর্য দেখে দিনটা কেমন যাবে সেটা বোঝা যায় না। আসল ঝড় যে জমিয়ে রেখেছিলেন পরবর্তী ২৮ বলের জন্য।

বোলাররা শুধু দেখল একটা মেশিন দাঁড়িয়ে আছে তাদের সামনে। আর একের পর এক বলগুলো আছড়ে পড়ছে সীমানার ওপারে গিয়ে। কোনটা ভালো বল আর কোনটা খারাপ এসব দেখছে না সে। সে শুধু জানে বলের ঠিকানা মাঠে নয়, হতে হবে গ্যালারিতে।

৩৮ বলে শেষমেষ ৯৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। আক্ষেপ কেবল একটাই, আরও এক শতকের দরজায় গিয়েও ফিরে আসতে হলো। তবে সাত চার আর দশ ছক্কায় সাজানো ইনিংস বলে দেয় বৈভবের আধিপত্য বিস্তারের গল্প। ৯৩ রানের মধ্যেই ৮৮ রানই এসেছে চার-ছক্কার মিশেলে। বোলারদের উপর দিয়ে কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে সেটা বুঝতে এইটুকুই যথেষ্ট।

বৈভব ঝড়ের দিনে দল জয় পাবে না তাই কি হয়! সাত উইকেটের জয় নিয়ে প্লে-অফের রাস্তাটা আরও একটু সহজ করে নিল রাজস্থান। ২২১ রানের লক্ষ্যটাকে বৈভব নির্মল হাসি দিয়েই মামুলি এক লক্ষ্য বানিয়ে ফেললেন।

Share via
Copy link