পাসপোর্টটা ব্রিটিশ, কিন্তু ভেতরের মানুষটার নাম – মোহাম্মদ আমির! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই চিরচেনা, খ্যাপাটে গতি তারকা এখন অফিশিয়ালি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। আর এই একটি খবরই ওলটপালট করে দিয়েছে ক্রিকেট দুনিয়ার অনেক সমীকরণ।
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আইপিএলের মঞ্চে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিন্তু আমিরের হাতের এই নতুন লাল পাসপোর্ট কি তবে সেই রুদ্ধ দুয়ার ভেঙে দিতে চলেছে?
বেশ কয়েক বছর আগে আবেদন করার পর, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আমিরের হাতে উঠেছে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট। তাঁর স্ত্রী নারজিস খান জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় এই স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার পথটি অনেকটাই মসৃণ হয়েছে।

রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ২০০৮ সালের উদ্বোধনী আসরের পর আইপিএলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য। কিন্তু এই নিরেট নিয়মের বেড়াজাল ভেঙেও একজন পাকিস্তানি খেলেছিলেন আইপিএলে – তিনি আজহার মাহমুদ। ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকার সুবাদে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে একজন ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলের নিলামে নাম তুলেছিলেন এবং ২৩টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
আইপিএলের নিয়মের খেরোখাতায় যদি কোনো আইনি বাধা না থাকে, তবে আমিরও তাঁর নতুন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ব্যবহার করে একজন ‘ওভারসিজ’ বা বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলের মেগা নিলামে রাজকীয় এন্ট্রি নিতে পারেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসার। পাকিস্তানের জার্সিতে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে আর ৬২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আমির। ওভালের মাঠে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনে একাই ধস নামিয়ে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি আর শিখর ধাওয়ানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের মহানায়ক ছিলেন এই আমিরই।

আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছাড়লেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আমিরের ধার কমেনি বিন্দুমাত্র। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.১৯ ইকোনমি রেটে ২২.৮৮ গড়ে শিকার করেছেন ৭৫টি উইকেট।
গতি আর অভিজ্ঞতার এই বিধ্বংসী প্যাকেজকে এবার আইপিএলের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লুফে নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।











