রেকর্ডসর্বোচ্চ পাঁচ বিশ্বকাপ নিয়ে যেখানে গর্ব করে ব্রাজিল, তার একটি শিরোপা কি তবে এসেছে গোপন ষড়যন্ত্রের কারণে? সম্প্রতি এমনই এক প্রশ্ন ভেসে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে ফুটবলের দুনিয়ায়।
১৯৭০ সালে ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র গোপন হাতের চাঞ্চল্যকর দাবি এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক গ্যাব্রিয়েল গেটহাউজ এবং তৎকালীন ইংলিশ গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কসের নাতি এড জার্ভিসের দীর্ঘ তিন বছরের অনুসন্ধান শেষে সামনে উঠে এসেছে এই রহস্য।
তাঁদের দাবি, স্নায়ুযুদ্ধের সেই উত্তাল সময়ে ইংল্যান্ডকে দুর্বল করে লাতিন আমেরিকায় শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সেজন্যে ব্রাজিলকে বাড়তি সুবিধা দিতেই পর্দার আড়ালে বোনা হয়েছিল এক ষড়যন্ত্রের জাল।
সেই ষড়যন্ত্রের প্রথম ছক কাটা হয়েছিল কলম্বিয়ায়, ১৯৭০ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে। একটি ব্রেসলেট চুরির মিথ্যা অভিযোগে আচমকাই আটক করা হয় সেই সময়ে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক ববি মুরকে।

যদিও পরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবে এই ঘটনাটি আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড দলের মানসিক পরিস্থিতি অনেকটাই ধসিয়ে দিয়েছিল।
রহস্যের শেষ এখানেই নয়। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ঠিক আগে রহস্যজনকভাবে তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়েন ইংলিশদের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক গর্ডন ব্যাঙ্কস।
ব্যাঙ্কস নিজেও তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে পানীয় পানের পরেই তিনি অসুস্থ হন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে তিনি আর মাঠে নামতেই পারেননি।
ব্যাঙ্কসের অনুপস্থিতিতে বিকল্প গোলরক্ষক বোনেত্তি মাঠে নামেন। যেখানে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইংল্যান্ডের মোকাবিলা না করেই।

অনুসন্ধানকারীদের মতে, লাতিন আমেরিকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে তৎকালীন ব্রাজিলের সামরিক সরকারকে খুশি করতেই সিআইএ এই সূক্ষ্ম নীল নকশা সাজিয়েছিল।
ফুটবল দুনিয়া কাঁপিয়ে দেওয়া এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো সরকারি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। এখনো পর্যন্ত মুখ বন্ধ করে রেখেছে সিআইএ। তবে, এই ঘটনা সত্যি হলে তা যে ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্ক হয়ে থাকবে তা বলাই বাহুল্য।










