হাইতির বিপক্ষে ৩–০ জয়ের রাতটা ব্রাজিলের জন্য আনন্দের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দ ম্লান করে দিল একটাই খবর — প্রথমার্ধেই মাঠ ছাড়লেন রাফিনহা, ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট নিয়ে। ফিরে আসার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, বিশ্বকাপে তাঁর বাকি অংশগ্রহণ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত। এটি এই বছরে রাফিনহার চতুর্থ ইনজুরি।
ব্রাজিলের ইনজুরি তালিকা অবশ্য শুধু রাফিনহাতেই শেষ নয়। রদ্রিগো, এস্তেভাও, মিলিতাও — একের পর এক নাম ছিটকে গেছে টুর্নামেন্টের আগেই। নেইমার পরের ম্যাচে ফিরতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে, কিন্তু কতটা ম্যাচফিট থাকবেন সেটা বড় প্রশ্ন। আর তাঁর ইনজুরির ইতিহাস বলছে, ঝুঁকিটা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সবচেয়ে বড় ফাঁদটা পেতে রেখেছে ফিফার নিয়ম। স্কোয়াডে যতক্ষণ ১৮ জন ফিট খেলোয়াড় থাকবে, ততক্ষণ কোনো রিপ্লেসমেন্ট সম্ভব নয়। অর্থাৎ এখন আর কেউ ছিটকে গেলে আনচেলত্তির হাতে কোনো বিকল্প নেই — শুধু মাঠে যা আছে তাই নিয়েই লড়তে হবে।

আর এই চাপটাই ব্রাজিলের খেলার ধরন বদলে দিতে পারে। আক্রমণাত্মক ফুটবল মানেই বাড়তি ইনজুরির ঝুঁকি — আর ব্রাজিল এখন সেই ঝুঁকি নেওয়ার অবস্থায় নেই। আনচেলত্তি না চাইলেও হয়তো রক্ষণাত্মক, নিরাপদ ফুটবলে যেতে বাধ্য হবেন। যে ব্রাজিল সুন্দর আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত, ইনজুরির ভয়ে সেই ব্রাজিলই হয়তো তার আসল খেলা খেলতে পারবে না — এটাই এবারের বিশ্বকাপে সেলেসাওর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।











