জার্মানির কাছে সাত গোল খেয়ে মাঠ ছাড়ার পর যার নাম হয়তো স্কোরবোর্ডের আড়ালে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, ক্যানসাস সিটিতে সেই গোলরক্ষক ইলোয় রুমই আজ বিশ্বকাপের নতুন রূপকথার নায়ক। ইকুয়েডরের বিপক্ষে যেন কুরাসাওয়ের পোস্টের সামনে এক অদৃশ্য প্রাচীর তুলে দিয়েছিলেন এই গোলরক্ষক!
ম্যাচজুড়ে ইকুয়েডরের গোলবন্যা ঠেকিয়ে ইলোয় রুম করেছেন অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভ। যা আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসের এক অনন্য রেকর্ড। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে একজন গোলরক্ষকের জন্য এটিই সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড।
অনেকে হয়তো ২০১৪ সালের টিম হাওয়ার্ডের কথা মনে করতে পারেন, যিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১৬টি সেভ করেছিলেন। কিন্তু হাওয়ার্ড সেই কীর্তি গড়তে সময় পেয়েছিলেন ১২০ মিনিট (অতিরিক্ত সময়সহ)। ইলোয় রুমের ১৫টি সেভ এসেছে মাত্র ৯০ মিনিটের নির্দিষ্ট সময়ে। সময়ের হিসাবে তাই রুমের এই পারফরম্যান্স হাওয়ার্ডের চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী।

শুরুর ম্যাচেই জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানের সেই ক্ষত দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। কিন্তু ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাডভোকাটের কৌশলী রক্ষণব্যূহ এবং ইলোয় রুমের অবিশ্বাস্য প্রাচীর তৈরির সক্ষমতা সবকিছু বদলে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শক যেন স্তব্ধ ছিল। একজন গোলরক্ষক একা কত বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন, তা বোধহয় ইকুয়েডরের সমর্থকেরা কোনোদিন কল্পনায়ও ভাবেনি।
কুরাসাওয়ের মতো ছোট একটি ফুটবলীয় শক্তির জন্য এই পয়েন্ট কেবল টেবিলের একটি সংখ্যা নয়, এটি তাদের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসের মূলে বড় এক ইনজেকশন। মিয়ামি এফসির হয়ে ইউএসএল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ইলোয় রুম প্রমাণ করে দিয়েছেন, তারকা খেলোয়াড় হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো বড় মঞ্চে নিজের স্নায়ু ঠিক রাখা।

জার্মানির বিরুদ্ধে সাত গোল খাওয়া সেই রুমই আজ ইকুয়েডরের জন্য এক অভেদ্য দেয়াল। ফুটবলের সৌন্দর্য বোধহয় এটাই – এখানে যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে ইতিহাস বদলে দিতে পারে। ইলোয় রুমের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন রেকর্ডের পাতায় আর ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।











