চক্রবৃদ্ধি হারে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল!

শুরুর ম্যাচে ব্রাজিলের মিডফিল্ড ছিল বড্ড নড়বড়ে; ক্যাসেমিরো আর ব্রুনো গুইমারেস বল যেন সামনে নিয়ে এগোতেই পারছিলেন না।

প্রথম ম্যাচের সেই ভঙ্গুর ব্রাজিল যেন প্রতি ম্যাচের সাথে খোলস ছেড়ে বেরোচ্ছে, আর প্রতিপক্ষের জন্য তৈরি করছে এক চরম ত্রাস। আসরের শুরুতে যে ভুল আর দুর্বলতাগুলো চোখে পড়েছিল, সেগুলোকে শুধরে নিয়ে সেলেসাওরা এখন সবুজ মাঠে এক ভয়ঙ্কর ও অপ্রতিরোধ্য রূপ ধারণ করার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

শুরুর ম্যাচে ব্রাজিলের মিডফিল্ড ছিল বড্ড নড়বড়ে; ক্যাসেমিরো আর ব্রুনো গুইমারেস বল যেন সামনে নিয়ে এগোতেই পারছিলেন না। তবে হাইতির বিপক্ষে সেই জড়তা কেটেছে এবং গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে এসে সেলেসাওদের মাঝমাঠকে বলতে হবে এককথায় ‘টপ-নচ’। মাঝমাঠের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণই বদলে দিচ্ছে পুরো দলের খেলার গতিপথ।

শুধু মাঝমাঠ নয়, উন্নতি হচ্ছে আক্রমণভাগেও। মরক্কোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে শুরুতে বেগ পেলেও, হাইতি আর তার তুলনায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের আক্রমণ ছিল ক্ষুরধার। প্রথম ম্যাচে ডান প্রান্ত নিষ্ক্রিয় থাকলেও তরুণ রায়ান এখন দিচ্ছেন দুর্দান্ত সার্ভিস। আর অন্য উইং থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়র তো প্রতি ম্যাচেই ছড়িয়ে যাচ্ছেন মুগ্ধতার ছোঁয়া।

আক্রমণের এই জোয়ারকে পেছন থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে ব্রাজিলের জমাট রক্ষণভাগ। গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েস এবং মার্কিনিওসের ডিফেন্সিভ জুটি হয়ে উঠছে দুর্ভেদ্য। যেকোনো আক্রমণকে নসাৎ করে দিয়ে এই দুই অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার দলের রক্ষণকে দিয়েছেন নতুন ভরসা, যা নকআউটের লড়াইয়ে বড় শক্তি জোগাবে।

শেষ ম্যাচে নেইমারের মাঠে ফেরা দলটিতে পরের রাউন্ডগুলোতে ফেলবে দারুণ প্রভাব। প্রথম ম্যাচের সেই ছন্নছাড়া দলটিকে এখন সুবিন্যস্ত এক অগ্নিগোলকে রূপান্তরিত করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। আর নকআউট পর্বে আনচেলত্তির জাদুকরী কৌশলের কথা তো সবারই জানা। এই অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল তাই সামনে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আতঙ্ক।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link