তুরস্কের গ্যালারিতে এক রহস্যমানব!

মুখমণ্ডল আলকাতরার মতো কালো, কিন্তু চোখ আর চুলগুলো ধবধবে সাদা - যেন কোনো পৌরাণিক চরিত্র!

​মাঠের ঘাসে যখন তুরস্কের নাজেহাল অবস্থা, গ্যালারির কোণে তখন অদ্ভুত এক আগন্তুক। মুখমণ্ডল আলকাতরার মতো কালো, কিন্তু চোখ আর চুলগুলো ধবধবে সাদা – যেন কোনো পৌরাণিক চরিত্র! ফুটবলবিশ্ব অবাক হয়ে দেখল, এ কোনো সাধারণ সমর্থক নয়, এ যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। নাম তাঁর ‘উদি নেকো’।

ভ্যাঙ্কুভারের স্টেডিয়ামে ক্যামেরা যখন প্রথমবার তাঁর ওপর পড়ল, মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল। অনেকেই তাঁকে ‘রহস্যমানব’ তকমা দিয়েছেন, কিন্তু নেজদেত ওলচেরমান নামের এই সমর্থকের কাছে এই সাজ মানে কেবল সস্তা বিনোদন নয়।

তিনি ধারণ করেন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ‘ব্ল্যাক বুল’ বা কালো ষাঁড়ের প্রতীক। যা সহনশীলতা আর মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মাথা নত না করার রূপক। আয়নার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করা এই কসরত তাঁর কাছে এক পবিত্র আচার।

এই রহস্যময়ী সাজের আড়ালে থাকা মানুষটি বাস্তবের মাটিতে বেশ গম্ভীর। তিনি কোনো পেশাদার ফুটবলার নন, এমনকি বিনোদন জগতের মানুষও নন।

তিনি একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং তুরস্কের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন প্রাক্তন চৌকস সদস্য। তুর্কি বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ আর তাঁর ডাকনাম ‘নেজদেত’-এর মেলবন্ধনেই তিনি আজকের ‘উদি নেকো’। বেসিকতাস ক্লাবের গ্যালারি থেকে উঠে আসা এই আবেগই এখন বিশ্বমঞ্চের শিরোনাম।

তুর্কি ফুটবলাররা হয়তো আসর জুড়েই গোল খরায় ভুগছেন, কিন্তু প্রতি ম্যাচেই গ্যালারির অন্ধকার কোণে ঠিকই জ্বলজ্বল করছেন এই ‘ব্ল্যাক বুল’। ফুটবলের জয়-পরাজয়ের হিসেব ছাপিয়ে এই অদ্ভুত সমর্থকটি আবারও বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন – ফুটবল কেবল পা দিয়ে মাঠের খেলা নয়, এটি মানুষের পাগলামি আর শিল্পের এক অদ্ভুত অভয়ারণ্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link