সিয়াটলের মাঠে যা হলো তাকে শুধু ফুটবল ম্যাচ বলা ঠিক হবে না — এ ছিল এক টানটান থ্রিলার। পাঁচ মিনিটেই গোল, পেনাল্টি মিস, সমতা, বাতিল গোল, বারে লাগা শট — পুরো ম্যাচজুড়ে মিশর আর ইরান মিলে লিখল বিশ্বকাপের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ এক অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্রয়ে থামল দুই দল।
শুরুটা হয়েছিল বিদ্যুৎগতিতে। মাত্র পাঁচ মিনিটে মোহামেদ সালাহর শট ইরানের গোলকিপার আটকালেন, কিন্তু বল পুরোপুরি সরাতে পারলেন না। ছুটে এলেন মাহমুদ সাবের — ত্রেজেগের অ্যাসিস্টে রিবাউন্ড থেকেই জাল কাঁপালেন।
কিন্তু ইরানও থামার পাত্র নয়। ১১ মিনিটে পেনাল্টি পেল তারা। মেহেদি তারেমি এগিয়ে এলেন স্পট কিক নিতে — কিন্তু গোলকিপার মোস্তাফা শোবেইর ডাইভ দিয়ে বাঁচিয়ে দিলেন। এই বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় পেনাল্টি মিস। মাঠজুড়ে স্তব্ধতা নামল। কিন্তু সেই স্তব্ধতা টিকল মাত্র তিন মিনিট। ১৪ মিনিটে রামিন রেজাইয়ান সংকীর্ণ কোণ থেকে রিবাউন্ড ঠেলে দিলেন জালে — সমতা ফেরাল ইরান।

দ্বিতীয়ার্ধে সালাহকে বিশ্রামে পাঠালেন কোচ — নকআউটের কথা মাথায় রেখে। শেষ দিকে নাটকের মাত্রা আরও বাড়ল। ৮৯ মিনিটে তারেমির হেড বারে লেগে ফিরল। যোগ করা সময়ে সেট পিস থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোল — কিন্তু ভিএআর দেখাল অফসাইড, গোল বাতিল। ৯৭ মিনিটে এজাতোল্লাহির হেড আবারও বারে — ভাগ্য যেন ইরানের বিরুদ্ধেই ছিল।
পরিসংখ্যানেও ম্যাচের তীব্রতার ছাপ স্পষ্ট — মিশরের ১৫টি শটের বিপরীতে ইরানের ১৩টি, অন টার্গেটে ইরানই এগিয়ে ৪-৩।
তিন ম্যাচে তিন ড্র, তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ জি-তে তৃতীয় ইরান। বেলজিয়াম ও মিশর দুই পয়েন্ট এগিয়ে নকআউটে। তবু ইরানের স্বপ্ন শেষ হয়নি — তৃতীয় স্থানের দল হিসেবে নকআউটে ওঠার সুযোগ এখনো টিকে আছে। দুইবার বার, একবার ভিএআর — এত কাছে এসেও শেষরক্ষা হলো না সিয়াটলে।











