ফুটবলে অনেক সময় সহজে গোলের দেখা পান না অনেকে। এরপরও পুরো ম্যাচের দৃশ্যপট নিপুণভাবে এঁকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তারা। লামিন ইয়ামাল যেন সেই বিরল শিল্পীদেরই একজন। প্রতি ম্যাচে গোল না করেও যিনি স্পেনের প্রাণভোমরা।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল করেছেন এই তরুণ। তবু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। কারণ ইয়ামালের খেলা শুধু গোলের সংখ্যায় নয়, নজরে আসে সৌন্দর্যে। আন্দোলিত হয় অনুভূতিতে।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তার পারফরম্যান্স যেন সেটিরই প্রতিফলন। ম্যাচের শেষভাগে তিন বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ঘিরে ফেলেছিল ইয়ামালকে। কিন্তু শরীরকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে মুহূর্তেই সবাইকে পরাস্ত করেন ইয়ামাল। দেন পেদ্রো পোরোর উদ্দেশে দারুণ এক ব্যাকহিল। আক্রমণটি থেকে গোল না হলেও ইয়ামালের সক্ষমতার প্রমাণ পেয়ে যান দর্শকরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেও বেলজিয়ামের প্রেসিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দারুণ স্প্রিন্ট নেন ইয়ামাল। তাকে থামাতে ফাউল করতে বাধ্য হন ম্যাক্সিম ডি কুইপার। এরপর একের পর এক ড্রিবল। হঠাৎ গতির বদলে প্রতিপক্ষের পরিকল্পনাই ভেস্তে দেন তিনি। তাকে থামাতে বেলজিয়ানদের একমাত্র হাতিয়ার হয়ে ওঠে ফাউল।
আর তখনই গ্যালারিতে তৈরি হয় আলাদা আবহের। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালের নাম ধরে গর্জে ওঠেন সমর্থকেরা। তার প্রতিটি টাচে তারা প্রকাশ করেন উল্লাস। প্রতিটি মুভমেন্টেই তারা দেখান উত্তেজনা। এ যেন “ইয়ামাল ওয়েভ”।
তেমন গোল না পেলেও স্পেনের আক্রমণ গড়ার এক অন্যতম কারিগর ইয়ামাল। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে প্রেস করার দারুণ অস্ত্র তিনি। স্প্যানিশ ফুটবলীয় সৌন্দর্যকে দর্শকদের মানসপটে অঙ্কিত করার দক্ষ শিল্পীও এই তরুণ তুর্কি।

এবার সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। সর্বশেষ ইউরোতে দেশটির বিপক্ষে চোখধাঁধানো শটে গোল করা এই তরুণ দেশকে ফাইনালে তোলার লড়াইয়ে আবারও কীভাবে ফুটবলের ছবি আঁকবেন, সেটিই দেখার পালা।










