ভারতের বিপক্ষে সিরিজ আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। তবু শেষ ম্যাচে যেন কোনো দয়া দেখানোর ইচ্ছেই ছিল না ইংল্যান্ডের। সিরিজ জয়ের পরও একই ক্ষুধা, একই আগ্রাসন। অনবদ্য সেই আগ্রাসনের নেতৃত্ব দিলেন জস বাটলার।
ইনিংসের শুরু থেকেই ভয়ংকর ছন্দে ছিলেন ইংলিশ এই ওপেনার। স্কুপ, রিভার্স স্কুপ, স্ট্রেইট ড্রাইভ, ডাউন দ্য ট্র্যাক—ক্রিকেট বইয়ের প্রায় সব শটই যেন বেরিয়ে আসছিল তার ব্যাট থেকে। মাঠের চারদিকে সমান তালে বাউন্ডারি আর ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতীয় বোলারদের ওপর একপ্রকার তাণ্ডব চালান তিনি। অপর প্রান্তে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও আক্রমণাত্মক ছিলেন, তবে পুরো আলোটা নিজের দিকেই টেনে নেন বাটলার।
ব্যাটিংয়ের এই দাপটের মাঝেই মাত্র ৫১ বলে তুলে নেন দুর্দান্ত এক শতক। তবে শতক করার পরও যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা। ভারতের কোনো বোলারই তাকে আটকে রাখতে পারেননি। পেস কিংবা স্পিন, সবকিছুরই জবাব দিয়েছেন একই আগ্রাসনে।

প্রতিটি ওভারেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত শিভম দুবের স্লোয়ার বলে থামেন তিনি। তার আগেই ৬৪ বলে ১৩১ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে ম্যাচের রং প্রায় একাই বদলে দেন। ১২টি চার আর আট ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা।
অন্য প্রান্তে বাটলারের যোগ্য সঙ্গী ছিলেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনিও খেলেন ৯৫ রানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস। দুজনের বিধ্বংসী জুটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে তিন উইকেটে ২৫৭ রান তোলে ইংল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যা ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
এই রান তাড়া করে জিততে হলে আত্মবিশ্বাসহীন ভারতের অলৌকিক কিছুই করতে হতো। সেটা তাঁরা পারেনি। ২০১ রানেই থেমেছে তাদের ইনিংস। ফলাফল ৫৬ রানের জয় তুলে ভারতকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ফেলল ইংল্যান্ড। যার অন্যতম কারিগরদের একজন জস বাটলার।











