জাদুকরদের গোধূলিতে নতুনের সূর্যোদয়

একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল মেসি, রোনালদো, নেইমার কিংবা মদরিচদের গল্প। এখনো মেসি, এমবাপ্পে কিংবা হাল্যান্ডদের মতো তারকারা আলো ছড়ান, কিন্তু সেই আলোয় আর নতুন মুখগুলো হারিয়ে যাচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন জানিয়ে দিল—একটি যুগ ধীরে ধীরে গোধূলিতে পৌঁছাচ্ছে, আর সেই আকাশেই উঠছে নতুন সূর্য। বড় তারকাদের ভিড়েও নিজেদের আলাদা করে চিনিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার, যাদের নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

একসময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল মেসি, রোনালদো, নেইমার কিংবা মড্রিচদের গল্প। এখনো মেসি, এমবাপ্পে কিংবা হাল্যান্ডদের মতো তারকারা আলো ছড়ান, কিন্তু সেই আলোয় আর নতুন মুখগুলো হারিয়ে যাচ্ছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন জানিয়ে দিল—একটি যুগ ধীরে ধীরে গোধূলিতে পৌঁছাচ্ছে, আর সেই আকাশেই উঠছে নতুন সূর্য। বড় তারকাদের ভিড়েও নিজেদের আলাদা করে চিনিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার, যাদের নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা।

মরক্কোর মাঝমাঠের নতুন ভরসা হয়ে উঠেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বোয়াদি। ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই একাদশে সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পুরো মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। সেই ম্যাচের পর থেকেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে চলে আসেন এই তরুণ।

সুইজারল্যান্ডের আক্রমণে একইভাবে ছাপ রেখেছেন ইয়োহান মানজাম্বি। গোল আর অ্যাসিস্ট মিলিয়ে দলের আক্রমণে বড় অবদান রাখা এই তরুণ টুর্নামেন্টজুড়েই ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই শেষ দিকে সুইসদের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যায়।

স্বাগতিক কানাডার হয়ে নজর কেড়েছেন নাথান সালিবা। কাতারের বিপক্ষে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে দলকে শেষ ষোলোয় তুলতে রাখেন বড় ভূমিকা। পুরো টুর্নামেন্টেই মিডফিল্ডে ছিলেন কানাডার অন্যতম নির্ভরতার নাম।

প্যারাগুয়ের চমকে ভরা যাত্রায় আলো ছড়িয়েছেন দুজন তরুণ। আক্রমণে হুলিও এনসিসো জার্মানির বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে দলকে ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে দেন। আর গোলবারের নিচে গিল পুরো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক সেভ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আসরের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে।

ব্রাজিলের হয়েও এক তরুণের গল্প কম রোমাঞ্চকর নয়। রাফিনিয়ার চোটে সুযোগ পাওয়া ১৯ বছর বয়সী রায়ান স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাসিস্ট করে ১৯৫৮ সালের পর পেলের পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এত কম বয়সে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার কীর্তি গড়েন।

অবশ্য লামিন ইয়ামালের গল্পটা একটু আলাদা। বিশ্বকাপের আগেই তিনি ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সেই স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে অসাধারণ ভূমিকা রেখে নিজের তারকাখ্যাতিকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছেন। গোল, অ্যাসিস্ট আর ম্যাচে প্রভাব—সব মিলিয়ে ছিলেন স্পেনের সাফল্যের অন্যতম নায়ক।

স্পেনের আরেক ১৯ বছর বয়সী তারকা পাও কুবার্সিও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। রক্ষণভাগে অসাধারণ পরিণত ফুটবল খেলে পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি জিতে নেন ফিফার সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার, যা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত।

এই বিশ্বকাপ আবারও প্রমাণ করে দিল, ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার খুব একটা কারণ নেই। বড় তারকাদের ছায়া পেরিয়ে নতুন প্রজন্ম ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে—আগামী এক দশকের বিশ্ব ফুটবল শাসন করার জন্য তারাই প্রস্তুত।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link