টানা ৫ মেইডেন উইকেট নিয়ে ইতিহাসের পাতায় জাস্টিন গ্রিভস!

একটা স্পেলই বদলে দিল ম্যাচের চিত্র, আর সেই স্পেলেই লিখে ফেললেন ইতিহাস। পাকিস্তান যেখানে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল, সেখানে জাস্টিন গ্রিভসের আগুনঝরা বোলিংয়ে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও গড়ে ফেললেন অনন্য এক বিশ্ব রেকর্ড।

একটা স্পেলই বদলে দিল ম্যাচের চিত্র, আর সেই স্পেলেই লিখে ফেললেন ইতিহাস। পাকিস্তান যেখানে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল, সেখানে জাস্টিন গ্রিভসের আগুনঝরা বোলিংয়ে মুহূর্তেই ধসে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস। সেই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও গড়ে ফেললেন অনন্য এক বিশ্ব রেকর্ড।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে অবিশ্বাস্য এক বোলিং স্পেল উপহার দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস। টেস্ট ক্রিকেটে তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো বোলার টানা পাঁচটি মেডেন ওভারে পাঁচটি উইকেট শিকার করলেন।

দিনের শুরুতে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৯৯। মধ্যাহ্নভোজের আগে ৬৩ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৪৪। তখন পর্যন্ত ৬ ওভার বল করে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি গ্রিভস। কিন্তু এরপরই শুরু হয় রেকর্ড গড়ার গল্প।

৬৪ থেকে ৭২তম ওভারে টানা পাঁচটি মেডেন ওভার করেন তিনি। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, প্রতিটি ওভারেই তুলে নেন একটি করে উইকেট। অর্থাৎ টানা পাঁচ ওভার বল করে কোনো রান না দিয়ে পাঁচ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান এই ক্যারিবিয়ান পেসার।

গ্রিভসের প্রথম শিকার হন সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক শান মাসুদ। ১০৯ রানে তাকে ফিরিয়ে শুরু করেন পাকিস্তানের ধস। এরপর একে একে ফেরান আমির জামাল, আলী উসমান, মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং মোহাম্মদ আব্বাসকে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্রথম ওভারেই আব্বাসকে আউট করে নিজের প্রথম টেস্ট পাঁচ উইকেটও পূর্ণ করেন তিনি।

এই কীর্তিতে ভেঙে যায় ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের রেকর্ড। ২০১৬ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা চারটি মেডেন ওভারে চার উইকেট নিয়েছিলেন ব্রড। এক দশক পর সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন গ্রিভস।

১৭তম টেস্ট খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পাওয়া গ্রিভস ইনিংশ শেষে বলেন, “অধিনায়ক রোস্টন চেজ শুধু আমাকে বলেছিলেন, শৃঙ্খলা ধরে রেখে একই জায়গায় বল করে যেতে। বল কিছুটা সুইং করছিল, আর আমি তার পুরস্কার পেয়েছি। যখনই আমার হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, দল চায় আমি যেন কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের ভরসা হয়ে উঠি। টেস্টে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত, তবে ম্যাচে এখনো অনেক কাজ বাকি।”

গ্রিভসের বিধ্বংসী স্পেলে ২৪৪ রান ৩ উইকেট থেকে ধসে পড়ে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।

তবে দিনের শেষ ভাগে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৩ রানেই হারায় ৭ উইকেট। পরে কেমার রোচ ও শামার জোসেফের অবিচ্ছিন্ন ৩৩ রানের জুটিতে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে স্বাগতিকরা ১২৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে । তাদের লিড  দাঁড়ায় ১৫৫ রান।

তৃতীয় দিনের নাটকীয় লড়াইয়ের কেন্দ্রে ছিলেন অবশ্য একজনই—জাস্টিন গ্রিভস। টানা পাঁচ মেডেন ওভারে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি শুধু ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেননি, নাম লিখিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায়ও।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link