চলতি মৌসুমে টানা তিন জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় ডানা মেলছে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। রায়ো ভাল্লেকানোর বিপক্ষে রাফিনহা ও লামিন ইয়ামালের অনবদ্য পারফরম্যান্সের উপর ভর করে ৫-২ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
নতুন মৌসুমে বার্সার খেলায় গতি থাকলেও ইয়ামালের গোল না পাওয়া নিয়ে মৃদু একটি সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রায়োর বিপক্ষে সেই ক্ষণিকের খরা কাটিয়ে জোড়া গোল তুলে নিয়েছেন এই বিশ্বজয়ী তারকা।
হ্যান্সি ফ্লিক তাঁর প্রিয় ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে কোনো বড় পরিবর্তন আনেননি, তবে তাঁর দলের প্রেসিং ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। রায়ো ভাল্লেকানো শুরুতে হাই লাইন ডিফেন্স খেলে বার্সাকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ১২ মিনিটে সার্হিও ক্যামেলোর গোলে এগিয়েও যায়। কিন্তু প্রথম ১৫ মিনিটের ধাক্কা সামলে ওঠার পর বার্সেলোনা উইং ভিত্তিক আক্রমণাত্মক কৌশলে ফিরে আসে।

রাফিনহা ও ইয়ামাল শুধু টাচলাইনের কাছাকাছি সীমাবদ্ধ থাকেননি। যখনই বার্সার মিডফিল্ডাররা বল দখলে নিয়েছেন, দুইজনই রায়োর ফুলব্যাকদের পেছনে হাফ স্পেস ব্যবহার করে ইনসাইড রান নিয়েছেন। বল যখনই ডান প্রান্তে ইয়ামালের পায়ে এসেছে, রাফিনহা ভেতর ঢুকে রায়োর সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রেখেছেন।
রাফিনহার জোড়া গোল এসেছে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত অফ দ্য বল পজিশনিংয়ের জন্য। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্লাইন্ড সাইড ব্যবহার করে বক্সে ঢোকা এবং ফ্রন্টলাইন থেকে প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিপক্ষকে প্রেসিং করার কাজে তিনি আবারও অনন্য ভূমিকা রাখেন। অন্যদিকে ডানপ্রান্ত থেকে ইয়ামালের ট্রেডমার্ক ‘কাটিং ইনসাইড’ ড্রিবলিং ও ফিনিশিং রায়োর রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয়।
টানা তিন জয়ে বার্সেলোনা কেবল পয়েন্ট তালিকায় ওপরে ওঠেনি, বরং ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেদের ভয়ংকর আক্রমণভাগের বার্তা আরেকবার জানিয়ে দিল। রাফিনহার কার্যকারিতা আর ইয়ামালের রূপকথার মতো ছন্দ ফ্লিক-বলকে চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের জন্য এক আতঙ্কে পরিণত করেছে।












