‘ফুরিয়ে যাওয়া’র তকমা মুছতে পারবেন জাকের আলী?

সাউথ আফ্রিকায় ছয় রানের জন্যে সেঞ্চুরিটা হলো না জাকের আলী অনিকের। কিন্তু ৯৪ রানের এই ইনিংসটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু বলে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৬৮ বলে ১৫১ রানের জুটি গড়ে তিনি মনে করিয়ে দিলেন এক পুরনো সত্য—যাকে "গন কেস" বলা হয়, সে এখনও লড়ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ছয় রানের জন্যে সেঞ্চুরিটা হলো না জাকের আলী অনিকের। কিন্তু, ৯৪ রানের এই ইনিংসটা সংখ্যার চেয়ে বেশি কিছু বলে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ এ দলের হয়ে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ১৬৮ বলে ১৫১ রানের জুটি গড়ে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি।

হবিগঞ্জের ছেলেটার শুরুটা রূপকথার মতোই ছিল। ২০১৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে চেনা মুখ, এরপর বিপিএলে ফিনিশারের ভূমিকায় নিজেকে অপরিহার্য করে তোলা। জাতীয় দলের দরজা খুলল ২০২৩ সালে, এশিয়ান গেমসে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৪ বলে ৬৮ রানের সেই ইনিংস জানিয়ে দিয়েছিল—এই ছেলে সংকটে ভয় পায় না।

টেস্ট অভিষেকেও তার প্রমাণ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চাপের মুখে ৫৮, পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ম্যাচ জেতানো ৯১। সেই সফরেই  টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৯টি ছক্কা মেরে গড়েন বাংলাদেশি হিসেবে রেকর্ড, আর ৫ নম্বরে নেমে অপরাজিত ৭২ সেই পজিশনে এখনও সর্বোচ্চ। ২০২৪ সাল জুড়ে ২১টি ছক্কা মেরে তাওহীদ হৃদয়ের পাশে বসেছিলেন যৌথ ভাবে প্রথম হয়ে।

তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটা এলো ব্যাট নয়, অধিনায়কত্বের ভারে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে লিটন দাস চোটে ছিটকে গেলে হঠাৎই নেতৃত্বের দায়িত্ব এসে পড়ে জাকেরের কাঁধে। সুপার ফোরে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হার, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়—অধিনায়কত্বের অভিষেকটা সহজ হয়নি তার জন্য। আফগানিস্তান সিরিজেও নেতৃত্ব দিতে হয় তাকে, কিন্তু ব্যাট ততদিনে চুপ। নেতৃত্বের চাপ আর ফর্মের ভাটা একসঙ্গে এসে যেন গ্রাস করে নেয় তার ছন্দ।

তারপর গল্পটা আরও কঠিন মোড় নেয়। ২০২৪ সালের মার্চের পর প্রথমবার, চলতি বছরের জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল থেকেই বাদ পড়েন জাকের। তাকে নিয়ে  সমালোচনার ঝড় বইল সামাজিক মাধ্যমে, ঘরোয়া লিগেও একাদশে জায়গা হারালেন।

এই গল্পটা বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন নয়। নাজমুল হোসেন শান্তও একসময় সমালোচনার তোপ সহ্য করতে হয়, অফ ফর্মের দায়ে বাদ পড়তে হয়, এক সময় ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব হারিয়ে টেস্ট অধিনায়কত্বও ছেড়েছিলেন ক্ষোভ থেকে, তারপর ফিরে এসে দলকে জিতিয়েছেন, নিজে সেঞ্চুরি করেছেন। প্রমাণ করেছেন, বাদ পড়া মানেই শেষ নয়—কখনো কখনো সেটাই ফেরার প্রথম ধাপ।

জাকেরও এখন সেই একই সিঁড়িতে। ৯৪ রানের ইনিংসটা কোনো ট্রফি জেতায়নি, কিন্তু নির্বাচকদের টেবিলে একটা প্রশ্ন ঠিকই রেখে গেছে, একই সাথে নিজের অফ সাইডে খেলার যে দূর্বলতা ছিল সেটা নিয়েও বাড়তি কাজ করছেন জাকের আলী। ফর্মে থাকলে তিনি কার্যকর – এই নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এবার জাকের আলীর নিজের ও নির্বাচকদের মনের সংশয় কাটানোর পালা। সেটা করতে পারলেই হয়তো আবারও জাতীয় দলের দরজাটা খুলে যাবে তাঁর জন্য।

Share via
Copy link