দীর্ঘ ১০১৬ দিন পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ড পেল উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের স্বাদ। সাবাহ এফকেকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে স্মরণীয় সূচনা করেছে রেড ডেভিলরা। কোচ মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলতে নামা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পুরো ম্যাচজুড়েই ট্যাকটিকাল ও টেকনিক্যাল শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে জয় ছিনিয়ে নেয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই ক্যারিকের দল মূলত বাঁ প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। লেফট ব্যাক প্যাট্রিক ডর্গু এবং ইনসাইড ফরওয়ার্ড ম্যাথুস কুনহার দুর্দান্ত রসায়ন সাবাহর ডিফেন্সকে তছনছ করে দেয়।
২৭তম মিনিটে ডর্গুর পাঠানো নিখুঁত নিচু ক্রসে নিয়ার পোস্টে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন কুনহা। মাঝমাঠে ইয়োরি টিলেমান্স এবং কোব্বি মাইনু গেমের টেম্পো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

৪২তম মিনিটে টিলেমান্সের পাস ধরে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর বিরতির ঠিক আগে ব্রায়ান এমবেউমোর পাস থেকে এক দ্রুততম কাউন্টার অ্যাটাকে সাবাহর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলের তৃতীয় গোলটি করেন স্ট্রাইকার বেঞ্জামিন সেসকো।
প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ক্যারিক দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠ সতেজ রাখতে টিলেমান্সের জায়গায় ম্যাসন মাউন্টকে মাঠে নামান। ৬৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে পাওয়া এক ফ্রি কিক থেকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন অধিনায়ক ব্রুনো। তিনি ওয়াল পার করে বল চিপ করলে জোশুয়া জিরকজি ব্যাকহিল করে গোলের মুখে বাড়ান এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজ খুব কাছ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চতুর্থ গোলটি তুলে নেন।
ট্যাকটিকাল দিক থেকে বিচার করলে আক্রমণভাগে কুনহা, এমবেউমো এবং ফার্নান্দেজ নিজেদের মধ্যে পজিশন অদলবদল করে খেলে সাবাহর ম্যান মার্কিং ডিফেন্সকে বারবার ফাঁদে ফেলেছেন। একই সাথে প্যাট্রিক ডর্গুর ওভারল্যাপিং রান সাবাহর রাইট ব্যাককে পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

সাবাহর ডিফেন্সিভ লাইন থেকে খেলা তৈরি করার চেষ্টাও ইউনাইটেডের হাই প্রেসিংয়ের মুখে ভেস্তে যায়। জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচের শেষ দিকে হ্যারি আমাস, শি লাসি ও আন্দ্রে সান্তোসের মতো তরুণদের সুযোগ দিয়ে স্কোয়াডের গভীরতা প্রমাণ করেছেন ক্যারিক।











