দ্য টেরর অব ফেনোমেনন!

ফুটবলে তখন স্ট্রাইকার হওয়া মানেই ছিল হয় শারীরিক শক্তিমত্তা দেখিয়ে গোল করা, নয়তো চটপটে গতিতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কার্যকর আঘাত হানা। কিন্তু দৃশ্যপটে রোনালদো নাজারিও যখনই এলেন, বদলে গেল সব সমীকরণ!

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি। ফুটবলে তখন স্ট্রাইকার হওয়া মানেই ছিল হয় শারীরিক শক্তিমত্তা দেখিয়ে গোল করা, নয়তো চটপটে গতিতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে কার্যকর আঘাত হানা। কিন্তু দৃশ্যপটে রোনালদো নাজারিও যখনই এলেন, বদলে গেল সব সমীকরণ! দানবীয় শারীরিক শক্তি আর লাইটওয়েট টেকনিক্যাল দক্ষতার এক ভয়ঙ্কর সংমিশ্রণে তিনি বনে গেলেন এক অপ্রতিরোধ্য গোলমেশিন!

পাওলো মালদিনি থেকে শুরু করে আলেসান্দ্রো নেস্তা কিংবা ফ্যাবিও ক্যানাভারোর মতো বিশ্বসেরা ডিফেন্ডারগণ প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, রোনালদোই ছিলেন তাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে ভীতিকর প্রতিপক্ষ। কেননা, সুগঠিত পেশীবহুল শারীরিক কাঠামোর কারণে ফাউল বা শোল্ডার-চার্জ করে কোনোমতেই গতিরোধ করা যেত না রোনালদোর। প্রতিপক্ষের সেন্টারব্যাকদের পরোয়া না করে অনায়াসেই রোনালদো অদম্য গতিতে গোলের দিকে ধেয়ে যেতেন।

মূলত, অভাবনীয় গতি আর অসামান্য ড্রিবলিংয়ের ক্ষমতার বদৌলতেই রোনালদো ডিফেন্ডার ও গোলকিপারদের জন্য ‘সাক্ষাৎ যমদূত’-এ পরিণত হন। বেশিরভাগ ফুটবলার যেখানে ট্যাকটিক্যাল স্কিল দেখাতে বা বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতি কিছুটা কমিয়ে দিতেন, সেখানে রোনালদো বিশ্বমানের গতি বজায় রেখেই বলকে আঁঠার মতো পায়ে আটকে রাখতেন।

ফলে তার হঠাৎ দিক পরিবর্তনের মুখে পড়ে ডিফেন্ডাররা প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় পেতেন না। ঘণ্টায় ২০ মাইলেরও বেশি গতিতে ছুটে পা ঘুরিয়ে তার করা ‘স্টেপ-ওভার’ বা ‘পেডালাডা’ প্রতিপক্ষের ভারসাম্যকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিত।

ওয়ান-ভার্সেস-ওয়ান পজিশন থেকে গোল করার প্রচলিত ব্যাকরণও নতুন করে লেখেন ‘ফেনোমেনোন’ বলে পরিচিত এই তারকা। পোস্টের কোণ খুঁজে শট নেওয়ার বদলে তিনি গোলকিপারকে ড্রিবল করে কাটাতে পছন্দ করতেন। শরীরী চাতুর্যে গোলকিপারকে পরাস্ত করে অনায়াসে জালে বল জড়াতেন তিনি।

পাশাপাশি, গোল করার ক্ষেত্রে কোনো পায়েই তাঁর ছিল না দুর্বলতা। ডান, বাম উভয় পায়েই তিনি সমান শক্তিতে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারতেন তিনি। একইসঙ্গে, গোল করতে তিনি শুধু মিডফিল্ডের পাসের ওপর নির্ভর করতেন না। হাফওয়ে লাইনের কাছ থেকে বল টেনে নিয়ে, বাঘা বাঘা ডিফেন্ডারদের মারাত্মক ট্যাকল এড়িয়ে তিনি সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় গোল করতেন।

এতসব অনন্য ফুটবলীয় কারিকুরিই রোনালদো নাজারিওকে প্রতিপক্ষ রক্ষণের সর্বকালের সেরা আতঙ্কে পরিণত করেছে। এ কারণেই, ফুটবল বিশ্বের তাবড় তাবড় ডিফেন্ডার আর গোলরক্ষকরা সহজে মুখোমুখি হতে চাইতেন না তাঁর। ‘দ্য টেরর অব ফেনোমেনন’-এর অসহনীয় চাপ সামলানো কি চাট্টিখানি কথা?

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link