আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতার পর ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় খবর হলো নিতিশ কুমার রেড্ডির ফেরা। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেই তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কেন তাকে হার্দিক পান্ডিয়ার সম্ভাব্য বিকল্প ভাবা হচ্ছে। দিল্লিতে শেষ ম্যাচে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি, এক ওভারেই ফিরিয়েছেন ওমরজাই, নবী আর মুজিব উর রহমানকে। যদিও এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন অভিষেক শর্মা, মাত্র ৩৪ বলে ১০৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে এনে দেন ২২১ রানের পুঁজি। তারপর নিতিশ আর রবি বিষ্ণয়ীর তিন উইকেট করে নেওয়া বোলিংয়ে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৪ রানে, ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবচেয়ে বড় হার।
তবে ম্যাচ শেষে আলোচনায় উঠে এলো নিতিশের নামই। ইনজুরি থেকে ফিরে আফগানিস্থানের বিপক্ষে ২য় ম্যাচেও তিন উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচসেরা। এভাবে ছন্দে ফেরাটা একটা প্রশ্ন আবার সামনে নিয়ে এলো, হার্দিক পান্ডিয়ার জায়গাটা কি এবার সত্যিই নিয়ে নেবেন তিনি? হার্দিকের ইনজুরি,ফিটনেস সমস্যার সমাধান আরেকজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আর সেখানেই ভারতের নির্বাচক রা ফিরিয়েছেন নিতিশ কে, আর সেই সুযোগ লুফে নিয়ে নিজের সেরাটা দেখিয়েছেন নিতিশ।
নিতিশের এই পথ চলা মোটেও সহজ ছিল না। বাবা মুত্যালা রেড্ডি ছেলের ক্রিকেট নিয়ে এতটাই সিরিয়াস ছিলেন যে হিন্দুস্তান জিংকের স্থায়ী চাকরি ছেড়ে দেন, হাতে তখনও প্রায় ২৫ বছরের চাকরি বাকি ছিল। আত্মীয়রা প্রশ্ন তুলেছিলেন, কিন্তু বাবা সরেননি। ২০২৪ সালে মেলবোর্নে অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরির দিন গ্যালারিতে বাবার চোখে জল দেখা গিয়েছিল, সেই ত্যাগেরই যেন প্রতিদান।

ক্যারিয়ারের শুরুটাও নাটকীয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক, দ্বিতীয় ম্যাচেই ৩৪ বলে ৭৪ রান করে ম্যাচসেরা। নভেম্বরে পার্থে টেস্ট অভিষেক, বিরাট কোহলির হাত থেকে ক্যাপ নেওয়া। এরপর বক্সিং ডে টেস্টে মেলবোর্নে ৮ নম্বরে নেমে ১১৪ রানের ইনিংস, অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় আট নাম্বার ব্যাটার হয়ে যান তিনি।
তবে পরিসংখ্যান বলছে হার্দিকের জায়গা এখনই নেওয়া সহজ নয়। ১৩৬ টি-টোয়েন্টিতে হার্দিকের ২২২১ রান আর ১১৪ উইকেট, সেখানে নিতিশের ক্যারিয়ার সবে শুরু। অন্যদিকে হার্দিক কে নিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর নিজেই বলেছেন, ” হার্দিক এখন টানা দশ ওভার বল করার মতো ফিট নন, আইপিএলের পর তেমন ম্যাচও খেলেননি, তাই ভারত-এ দলে খেলে ফিরতে হবে তাকে।” গম্ভীরের ইঙ্গিত, ভবিষ্যতে দুজনকে একসঙ্গেও খেলানো যেতে পারে।
আপাতত নিতিশকে টি-টোয়েন্টি থেকে সরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলানোর লক্ষ্যে তৈরি করা হবে, লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপ আর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। হার্দিকের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তার যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে ওঠার পথেই এখন হাঁটছেন নিতিশ কুমার রেড্ডি।












