দুবাইয়ে যেমন খেলেছিলেন, এশিয়ান গেমসে জাপানের বিপক্ষেও তেমনই খেললেন শেফালি ভার্মা, ব্যাট আর বল দুই দিকেই ঝলক দেখালেন। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে ১৯.৫ ওভারে ৫৭ রানে গুটিয়ে যায় জাপান, আর সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ম্যাচ শেষ করে দেয় মাত্র ৫ ওভারে, ৮ উইকেটের জয়ে।
বল হাতে শুরুতেই নিজের ছাপ রাখেন শেফালি। ১৪তম ওভারে দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে থাকা আয়াকা কাতো-স্টাফোর্ডকে ফিরিয়ে জাপানের সবচেয়ে বড় জুটি ভাঙেন তিনি, পরে ১৬তম ওভারে শিমাকো কাতোকেও তুলে নেন। ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে তার শিকার ২ উইকেট।
তবে ম্যাচের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স ছিল শ্রী চরণীর, ৪ ওভারে মাত্র ১০ রানে ৪ উইকেট। ষষ্ঠ ওভারে হারুনা ইওয়াসাকি আর মাই ইয়ানাগিদাকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সামনেও দাঁড়িয়ে যান তিনি। শ্রেয়াঙ্কা পাতিল আর দীপ্তি শর্মাও একটি করে উইকেট নিয়ে জাপানকে চাপে রাখেন পুরো ইনিংস জুড়ে।

বড় দল আর ছোট দলের পার্থক্যটা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ভারতের মেয়েরা। ৫৮ রানের লক্ষ্যে নেমে পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারতের ব্যাটিং পাওয়ার হাউস শেফালির হাত ধরে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত। প্রথম ওভারেই আহিল্যা চান্দেলকে চারটি চার মেরে শুরু করেন তিনি, এরপর প্রতিটি ওভারেই বাউন্ডারি বের করে নেন জাপানি বোলারদের থেকে। মাঝে গুনালান কামালিনি আর ভারতী ফুলমালি ফিরলেও রান তাড়ায় তাতে কোনো প্রভাব পড়েনি। শেষ পর্যন্ত ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন শেফালি, ছয়টি চার আর দুটি ছক্কায়। তার সঙ্গী রিচা ঘোষ অপরাজিত থাকেন ৬ বলে ১২ রানে। শেষ ওভারে শিমাকো কাতোকে ছক্কায় উড়িয়ে নিজেই ম্যাচ শেষ করেন শেফালি।
পুরো ম্যাচে জাপানের প্রাপ্তি বলতে ব্যাট হাতে একজনের ২৫ রান, আর বল হাতে ভারতের মাত্র দুটি উইকেট তুলে নিতে পারা। এই জয়ে সেমিফাইনালে উঠল ভারত, আগেই সেমিতে জায়গা করে নেওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে তারা।












