আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে মিরপুরে অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ। মাঠে ব্যাট হাতে ব্যস্ত দেখা গেছে সৌম্য সরকার, জাকির হাসান আর সাদমান ইসলামকে, সঙ্গে টপ অর্ডারের মুমিনুল হক আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। আগামী ৯ অক্টোবর আমিরাতে শুরু হবে সেই টেস্ট! এবারও সবার চোখ অবশ্য সেই ওপেনিংয়ের দিকে, কারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশ ঠিক এই জায়গাতেই হোঁচট খাচ্ছে।
টেস্টে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ওপেনিং জুটি, প্রথম জুটি বিনা উইকেটে কয়েকটা সেশন কাটিয়ে দিতে পারলে লিড গড়া বা লিড তাড়া করা, দুটোরই শুরু ভালো হয়। কিন্তু এখানে এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধাঁধা! জয়, সাদমান ও জাকিরের মধ্যে যেন চলছে কে কার চেয়ে খারাপ খেলবেন, সেই প্রতিযোগিতা! একজন ব্যর্থ হলে দলে সুযোগ পান আরেকজন।
মাহমুদুল হাসান জয় ২৩ টেস্টে করেছেন ১১২৯ রান, গড় ২৬.২৫, ২০২২ সালে ডারবানে করা তাঁর ১৩৭ সাউথ আফ্রিকায় কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের শুরু থেকে ৭ টেস্টে গড় ১৪.৯২ হওয়ায় বাদ পড়েন। জাতীয় লিগে ১২৭ ও ৫১ করে ফিরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭১। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে আর জায়গা পাননি।

সাদমান ইসলামের ৩০ টেস্টে রান ১৪৯৮, গড় ২৭.৭৪। অস্ট্রেলিয়ায় ৪ ইনিংসে মোট ৪৬, ডারউইনে ২০ ও অপরাজিত ২৫, ম্যাকায়তে ০ ও ১।
জাকির হাসান ১৩ টেস্টে করেছেন ৫৯৩ রান, গড় ২৩.৭২, ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন, শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৪ সালের নভেম্বরে।সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথম শ্রেণিতে করেন ৬২৮ রান, গড় ৫৭.০৯। পাকিস্তান সিরিজে সাদমানের বদলি হিসেবে দলে ফিরলেও একাদশে জায়গা হয়নি।
সাদা বলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের টেস্ট অভিষেক গত ১৬ মে, সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৩ টেস্টে রান ১৪০, গড় ২৩.৩৩। ডারউইনের ১০১ অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে হয়েছেন ইতিহাসের অংশ! ম্যাকায়তে ব্যাটিং বিপর্যয়ে তিনিও ছিলেন সঙ্গী, করেছেন ০ ও ৯ রান।

সৌম্য সরকারকে সাড়ে পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ডাকা হলেও খেলানো হয়নি। ১৬ টেস্টে তাঁর রান ৮৩১, গড় ২৭.৭০, সর্বোচ্চ ১৪৯, শেষ টেস্টে করেছিলেন ০ ও ১৩। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৫ সালের ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন।
সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ এ দলের সফরেও ওপেনাররা আলো ছড়াতে পারেননি। প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে দল অলআউট হয় ১২২ ও ১১২ রানে, হার ইনিংস ও ৪১৩ রানে। জয় প্রথম ইনিংসে ১৯ করেন, জাকির দ্বিতীয় ইনিংসে ৮। যেখানে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশে আলো ছড়ায় তিন নম্বরে নেমে অপরাজিত ৩৫০ করেন তাওহিদ হৃদয়, প্রথম শ্রেণিতে যা কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ।
ওপেনিংয়ের এই অবস্থার মধ্যেও টেস্টে দল এবার ভালো করছে। পাকিস্তানকে হারিয়েছে ২-০ তে, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ১-১। কৃতিত্ব মূলত ওপেনার বাদে বাকিদের। পাকিস্তান সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিকুর রহিমের, মিরপুরে শান্ত করেছেন ১০১ ও ৮৭।

আফগানিস্তান টেস্টের পর নভেম্বরে আছে সাউথ আফ্রিকা সফর। এবার কি ওপেনিংয়ের টানা ব্যর্থতা থেকে মুক্তি মিলবে, নাকি আবারও শান্ত, মুমিনুল, মুশফিকদের ওপরই ভরসা করতে হবে?











