অজুহাতে ঢাকা পড়ছে রিয়ালের ‘অসহায়ত্ব’

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর যে ক্লাবটি একসময় হার না মানা কামব্যাক এর প্রতীক ছিল, সেই রিয়াল মাদ্রিদ এখন যেন কেবলই এক দিশেহারা নাম। একের পর এক ডাগআউট বদলে কোচ আনা হলেও দলের মধ্যে সেই তেজ বা স্পিরিট ফেরানো যায়নি।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর যে ক্লাবটি একসময় হার না মানা কামব্যাক এর প্রতীক ছিল, সেই রিয়াল মাদ্রিদ এখন যেন কেবলই এক দিশেহারা নাম। একের পর এক ডাগআউট বদলে কোচ আনা হলেও দলের মধ্যে সেই তেজ বা স্পিরিট ফেরানো যায়নি। ডার্বি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দল যেভাবে জেতার চেষ্টাটুকুও ছেড়ে দিল, তা প্রমাণ করে মাঠের লড়াই লড়ার সেই মানসিকতাটাই আর নেই।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান সমস্যার আসল শিকড় লুকিয়ে আছে তাদের পঙ্গু মাঝমাঠে। টনি ক্রুস পরবর্তী যুগে একজন প্রপার ডিপ লাইং প্লে মেকার বা খেলা নিয়ন্ত্রকের অভাব মাঝমাঠকে সম্পূর্ণ দিশাহীন করে তুলেছে।

চুয়ামেনি এবং ফেদেরিকো ভালভার্দেকে নিয়ে গড়া পিভট মূলত ফিজিক্যাল প্রেজেন্স ও ডিফেন্সিভ ডেস্ট্রাকশনের কাজে পারদর্শী হলেও, তাদের মধ্যে লাইনব্রেকিং পাস দেওয়া বা প্রেস রেজিস্ট্যান্ট হয়ে খেলা পরিচালনার ভিশন নেই। মাঝমাঠ থেকে সেন্টার দিয়ে কোনো আক্রমণ তৈরি হচ্ছে না। বল পেলেই স্রেফ উইংয়ে থাকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র বা আর্দা গুলারের পায়ে ঠেলে দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো প্ল্যানই অবশিষ্ট নেই তাদের।

পরিসংখ্যানের পাতায় তাকালে মনে হতে পারে কিলিয়ান এমবাপ্পে দারুণ ফর্মে আছেন। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা হলো দলের প্রয়োজন মেটাতে বারো আনাই ব্যর্থ তিনি। অন্য প্রান্তে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের অবস্থা তো আরও করুণ।

মাঠে ভিনিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি ফুটবল খেলাটাই ভুলে গেছেন! তার ওপর নতুন ট্যাকটিক্সে জোর করে ভিনির ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেট বাড়ানোর যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, তাতে রক্ষণে দৌড়াতে গিয়ে তাঁর আক্রমণটাই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মাঠের খেলা শুধরে নেওয়ার এই জরুরি ট্যাকটিক্যাল এডজাস্টমেন্টে নজর না দিয়ে হোসে মরিনহোসহ পুরো ডাগআউট ব্যস্ত হয়ে পড়েছে রেফারিং নিয়ে অজুহাত দাঁড় করানোয়। প্রতিটি ম্যাচ শেষে অফিশিয়ালদের ওপর দোষ চাপিয়ে ক্লাবের ভেতরের মৌলিক গলদগুলোকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভিনিসিয়াসের ব্যালন ডি’অর হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে এক ধরনের অভিযোগমুখী বা ভিকটিম মেন্টালিটি তৈরি হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের সাবকনশাস মাইন্ডে এই বার্তা পাঠাচ্ছে যে তাদের পরাজয়ের পেছনে নিজেদের ব্যর্থতা নয়, বরং বাইরের সিদ্ধান্ত দায়ী।

​চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা যেখানে ক্ষুরধার ও গতিশীল ফুটবল খেলে পয়েন্ট টেবিলে ইতিমধ্যেই ছয় পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করে ফেলেছে, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদ হারিয়ে ফেলেছে তাদের সেই ঐতিহ্যবাহী আধিপত্য বিস্তারকারী মনোভাব।

আন্তর্জাতিক বিরতির এই সময়টুকু যদি রিয়ালের নীতি নির্ধারকদের চোখ খুলে না দেয় এবং সামনের সামার ট্রান্সফারে যদি মিডফিল্ড পুনর্গঠনে তারা হাত না দেন, তবে কেবল অতীত ইতিহাস আর ব্যক্তিকেন্দ্রিক তারকা নির্ভরতা দিয়ে চলতি মৌসুমেও কোনো ট্রফি জেতা সম্ভব হবে না।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link