ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের ব্যবধানটা মাত্র দুই, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪৮ রানে হারলে একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল জাপান এই ম্যাচটা জিততে পারে। এই দুটো পরাজয়ের একমাত্র কারণ স্রেফ অভিজ্ঞতার অভাব। তবে স্কোরবোর্ডের এই পরাজয়ের আড়ালেও জাপান যে ক্রিকেটে নিজেদের জন্য নতুন একটা পরিচয় তৈরি করছে, সেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
ভারতের মতো দলের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে চৌকাঠ পেরোতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও জাপান নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে সেদিন। এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে সেই আত্মবিশ্বাস কাজেও দিয়েছিল। বল হাতে আফগানদের ১২৯ রানেই আটকে দেয় জাপান। রান তাড়া করতে নেমে একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারবে তারা। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতাগুলোর একটি আবারও সামনে এলো, লড়াই করতে পারা আর লড়াইটা শেষ পর্যন্ত জিততে পারা এক জিনিস নয়।

৫৩ রান থেকে ৬৩, মাত্র ১০ রান। এই ১০ রানেই জাপানের ইনিংসে নেমে এলো অন্ধকার। একে একে হারিয়ে ফেলল ছয়টি উইকেট। যে দলটা এতক্ষণ আফগানিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল, হঠাৎ করেই তাদের ব্যাটিং অর্ডারে নেমে এলো ধস। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানেই থেমে গেল জাপানের ইনিংস। আর আফগানিস্তান পেল ৪৮ রানের জয়।
এই দুটো ম্যাচের পরাজয়ের কারণ হিসেবে অভিজ্ঞতার ছাপটাই বেশি স্পষ্ট। বড় দলের বিপক্ষে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, কীভাবে একটা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হয়, কোথায় ঝুঁকি নিতে হয় আর কোথায় উইকেট বাঁচিয়ে রাখতে হয়, এই পাঠগুলো শিখতে জাপানের আরও সময় লাগবে। ৫৩ থেকে ৬৩ রানের সেই ধসও যেন অভিজ্ঞতারই নির্মম পরীক্ষা।

অভিজ্ঞতা একদিনে তৈরি হবে না, তবে দলটার ক্যাপাবিলিটি আছে। মাঠের খেলায় সবটা দিয়ে লড়ছে। ১১ জন আপ্রাণ চেষ্টা করছে জেতার জন্য। আর তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে গ্যালারিতে বসে আছে সমর্থকরা। ক্রিকেট মাঠে এমন ক্রাউডই বলে দিচ্ছে জাপান নতুন স্বপ্ন দেখছে। সমর্থকদের দেখাচ্ছে। যা একদিন দেশটার ক্রিকেটের আকাশ আলোকিত করবে নিশ্চয়।










