প্রশ্নটি নিয়ে অবশ্য হিসাব-নিকাশ আর জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই! স্কোয়াডে এই দুজন ব্যাটার থাকলেই আফ্রিকার কন্ডিশনে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তবে শর্ত একটাই: গতিময় পেস সহায়ক আফ্রিকান উইকেটে ধীরস্থিরভাবে দেখে-শুনে খেলতে হবে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের।
এছাড়া, আসন্ন বিশ্বকাপে বিরাটের বয়স থাকবে ৩৯ আর রোহিতের বয়স থাকবে ৪০ এর কোঠায়। এত বয়সেও তাই শারীরিক সামর্থ্য ও নিখুঁত টাইমিংয়ের সমন্বয় সাধন এই দুই ম্যান ইন ব্লুজ ব্যাটারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে।

অবশ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিরাটের ব্যাটিংয়ের পরিসংখ্যানটা দুর্দান্তই বলা চলে। প্রোটিয়াদের পিচে একদিনের ক্রিকেটে বিরাটের ৭৪.৮৩ ব্যাটিং গড় স্পষ্ট করে দেয়, তিনি ব্যাট হাতে কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন বিশ্বকাপে। দেশটিতে ১৪ ম্যাচে ৮৯৮ রান করেছেন বিরাট। এর বাইরে, মোট ৩৭টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ম্যাচে বিরাট কোহলি ১ হাজার ৭৯৫ রান তুলেছেন ক্যারিয়ারে, যা ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। আছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ১২টি হাফ সেঞ্চুরিও।
বিপরীতে, আফ্রিকার কন্ডিশনে রোহিত শর্মা ঢের পিছিয়ে আছেন। ১৪ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাঁর সংগ্রহ ২৫৬ রান, গড়ও মোটে ১৯.৬! তবে, ওয়ানডে বিশ্বকাপে রোহিতের পরিসংখ্যানটা বেশ উজ্জ্বল। ২৮ ইনিংসে সাতটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৬০.৫৭ গড়ে ১ হাজার ৫৭৫ রান করেছেন রোহিত।
সম্প্রতি, ইংল্যান্ড সফরে হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ফেরার পর লর্ডসে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দলেও রয়েছেন এই ডানহাতি ওপেনার। মাঝে অবশ্য অফ ফর্মের কারণে অবসরের নানা গুজব চাউর হলেও, দ্রুতই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রোহিত। জানান, বিশ্বকাপের আগে খেলা ছাড়ছেন না তিনি।

অন্য দিকে, ওয়ানডে ফরম্যাটে বিরাট কোহলি এখনও বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) অটো চয়েস! সংস্করণটিতে রেকর্ড ৫৪টি সেঞ্চুরির মালিক এই ব্যাটার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের কাণ্ডারির ভূমিকায় আবির্ভূত হতে বর্তমানেও সিদ্ধহস্ত! সঙ্গে, তরুণ যশস্বী জয়সওয়ালের মতো উদীয়মান তারকারাও যে সুযোগ পেলে ব্যাট হাতে ভারতের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে প্রস্তুত থাকবেন আসন্ন বিশ্বকাপে, তা বলাই বাহুল্য!
তবু, যত যা-ই হোক, আফ্রিকার মতো চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার জুটি ব্যাট হাতে যে কোনো সময়েই ভারতকে মোমেন্টাম এনে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন! এই তারকা জুটি কি পারবেন ২০১১ সালের পর আবারও ভারতকে ওয়ানডে ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এনে দিতে? সময়ই দেবে তার সঠিক জবাব!










