শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত গল্পটা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। টাউনসভিলের গ্যালারিতে বিজয়ের অপেক্ষা। বিশ্বকাপের পর প্রথম ম্যাচেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানো থেকে কেবল কয়েক সেকেন্ডের দূরত্ব। কিন্তু ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কারও নয়, সেটাই আবারও মনে করিয়ে দিল ব্রাজিল। শেষ মুহূর্তের গোলে অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ম্যাচটা ১-১ সমতায় শেষ করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের শুরুতে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে ব্রাজিল নিজেদের পরিচিত ছাপ রাখার চেষ্টা করলেও অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ ছিল বেশ সংগঠিত। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহাদের নিয়ে সাজানো ব্রাজিলের আক্রমণ বারবার সুযোগ খুঁজেছে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি। বিশ্বকাপের পর নতুন চেহারার ব্রাজিলকে প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবারই অস্ট্রেলিয়ার জমাট রক্ষণে আটকে যেতে হয়েছে।
বিরতির পর ম্যাচের চিত্র আরও জমে ওঠে। ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়ায়, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। বরং ৬৮ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। গোলটি পুরো স্টেডিয়ামকে একসঙ্গে বিস্ফোরিত করে দেয়।

এরপর সময় যত গড়িয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার স্বপ্ন তত বড় হয়েছে। ম্যাচের শেষ বাঁশির অপেক্ষা তখন। ব্রাজিল গোলের জন্য মরিয়া, অস্ট্রেলিয়া নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে ব্যস্ত। আনচেলত্তি বেঞ্চ থেকে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ করেন।
শেষ পর্যন্ত সেই চাপই ফল এনে দেয়। বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে কর্নার পায় ব্রাজিল। দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান রায়ান। ব্যাস, বদলে যায় সব গল্প। অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য জয় পরিণত হয় ড্রয়ে, আর ১-১ সমতায় শেষ হয় টাউনসভিলের রোমাঞ্চকর লড়াই।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য তাই আফসোসটা থেকেই গেল। হাতের মুঠোতে থাকা জয়টা বেরিয়ে গেল। কিন্তু ব্রাজিল দেখাল, শেষ হওয়ার আগে কোনো কিছুই শেষ না। যদিও দিনটা তাদের জন্য ব্যর্থতারই, তবে হেরে যাওয়ার থেকে ড্র মন্দ কী?











