আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় বলুন, কিংবা পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট, নামটা কোনো প্রকার যদি-কিন্তু ছাড়াই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অথচ ক্যারিয়ারের উপসংহারে এসে তিনিই হয়ে উঠলেন দলের সবচাইতে বড় বোঝা। অসলোর মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের সাম্প্রতিক ২-১ ব্যবধানের জয়টি আবারও প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে – রোনালদোকে ছাড়াই কি পর্তুগাল দল হিসেবে বেশি কার্যক্ষম ও কৌশলী?
আধুনিক ফুটবলের মূল চাবিকাঠি হলো হাই প্রেসিং ও আউট অব পজেশন ওয়ার্করেট। মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়কেই একসঙ্গে প্রেস করতে হয়। ৪২ এ পা দেওয়া রোনালদোর ক্ষেত্রে এই একটানা প্রেসিং করা শারীরিকভাবে প্রায় অসম্ভব। এর ফলে পর্তুগাল যখন বল ছাড়া খেলে, তখন বাকি দশ জন খেলোয়াড়কে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৪-৩-১-২ ফরমেশনে গনসালো রামোস ও জোয়াও ফেলিক্সের ফ্রন্টলাইন নরওয়ের বিল্ড-আপকে শুরুতেই আটকে দিয়েছিল। যা রোনালদো একাদশে থাকলে পাওয়া কঠিন হতো।

রোনালদো যখন একাদশে থাকেন, তখন পুরো দল তাকে কেন্দ্র করে খেলে। আক্রমণভাগের বেশিরভাগ ক্রস ও পাস রোনালদোর দিকেই যায়, যা প্রতিপক্ষের ডিফেন্সের জন্য পূর্বাভাস দেওয়া সহজ করে তোলে। কিন্তু রোনালদোহীন ম্যাচে পর্তুগালের আক্রমণভাগে কোনো এক একক ব্যক্তি থাকেন না। দলের আক্রমণ হয়ে ওঠে প্রেডিক্ট করা কঠিন।
৪-৩-১-২ ফরমেশনে জোয়াও ফেলিক্স, ব্রুনো ফার্নান্দেস এবং গনসালো রামোস অনায়াসে নিজেদের মধ্যে পজিশন অদলবদল করতে পারেন। রামোসের ক্ষুরধার বল হোল্ডিং ও লিংক আপ প্লে অন্যান্য মিডফিল্ডারদের সরাসরি বক্সে ঢোকার জায়গা তৈরি করে দেয়।
পর্তুগালের বর্তমান দলটিকে বলা হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস কিংবা জোয়াও ফেলিক্সের মতো খেলোয়াড়েরা নিজেদের ক্লাবে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। অথচ জাতীয় দলে রোনালদোর উপস্থিতিতে অনেক তরুণ প্রতিভাকে তাঁর ছায়ায় বা ভুল পজিশনে খেলতে হয়। ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং দলের দীর্ঘমেয়াদি ট্রানজিশনের জন্য তরুণের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

মহাতারকাদের ক্ষেত্রে বিদায়ের ক্ষণটি চিনে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় আভিজাত্য। আধুনিক ফুটবলের দ্রুতগতির প্র্যাকটিক্যাল দুনিয়া, মাঠের নির্দয় পরিসংখ্যান এবং নির্মোহ কৌশলগত হিসাব আজ একটাই সত্যকে সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে – পর্তুগালের ভবিষ্যৎ এখন আর অতীতমুখো নয়। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অর্জিত সোনালী কীর্তি, অমলিন সম্মান আর সবটুকু গৌরবকে অটুট রেখেই রাজমুকুটটি পরবর্তী প্রজন্মের মাথায় সঁপে দিয়ে নীরবে সরে দাঁড়ানোর এটাই সবচেয়ে মোক্ষম সময়।











