জাপানে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট নিয়ে আয়োজকদের স্বপ্নটা বড় ছিল,এশিয়ান দলগুলো গুলো নিজেদের মেইন টিম পাঠিয়েছে , কিন্তু নিশিনের আকাশের পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম, ভারত ও পাকিস্তান দুই দলের কোয়ার্টার ফাইনালে একটা বলও গড়ালো না, যেখানে কেবল বৃষ্টি জিতে গেল।
সোমবার প্রথম ম্যাচটা ছিল পাকিস্তান আর হংকংয়ের। টস হলো না, বলও মাঠে গড়ালো না, কভারে ঢাকা পিচের ছবিই হয়ে থাকল দিনের একমাত্র দৃশ্য। ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণার পর সেমিফাইনালের টিকিট পেয়ে গেল পাকিস্তান। মাঠের লড়াইয়ে নয়, র্যাংকিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে। আইসিসির তালিকায় তারা ছয় নম্বরে, প্রতিপক্ষ চব্বিশে।
কিছুক্ষণ পরে একই চিত্রনাট্য ফিরে এল ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচে। বিশ্বের এক নম্বর দলের সামনে ছিল দশ নম্বর দল। শুরুই হলো না লড়াইটা,ভারত ঢুকে গেল শেষ চারে, আগের ম্যাচের মতোই বিনা বলে।

দুটি ম্যাচ এক দিনে ভেসে যাওয়া হয়তো কাকতালীয়। কিন্তু টুর্নামেন্টজুড়ে এই ছবি বারবার ফিরছে, নারী বিভাগে বাংলাদেশ ও চীনের কোয়ার্টার ফাইনাল একটি বলও গড়ায়নি। ছেলেদের গ্রুপ পর্বে নেপাল-জাপান ম্যাচ ধুয়ে গেছে, মালয়েশিয়া-ওমান ম্যাচে টস পর্যন্ত হয়নি। সংখ্যাটা এখন এমন জায়গায় গেছে, যেখানে দুর্ভাগ্য শব্দটা আর যথেষ্ট ব্যাখ্যা দেয় না।
আসল সমস্যা বোধ হয় আবহাওয়ার নয়, পরিকল্পনার। ঠাসা সূচিতে বাড়তি দিন রাখার জায়গা নেই। ভেন্যুতে ফ্লাডলাইটও নেই, তাই বৃষ্টি থেমে গেলেও সন্ধ্যার পর খেলা টেনে নেওয়ার পথ বন্ধ। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের সম্ভাবনাও ডুবে যায়।
অথচ জাপানের জন্য এটা ছিল বড় সুযোগ। দেশটিতে ক্রিকেটের ভিত এখনো নতুন, আর এবার এশিয়ার প্রায় সব দলই শক্তিশালী স্কোয়াড পাঠিয়েছে। নতুন দর্শক টানার এমন মঞ্চ সহজে মেলে না। কিন্তু গ্যালারিতে এসে যিনি শুধু বৃষ্টি আর ভেজা কভার দেখে ফিরবেন, খেলাটার সঙ্গে তাঁর আগ্রহ টা কিভাবে হবে?
মাঠে না নেমে সেমিতে ওঠার আনন্দের সাথে টেনশনও আছে। ভারত আর পাকিস্তান শেষ চারে নামবে এমন এক ভেন্যুতে, যেখানে তারা এই আসরে একটি বলও খেলেনি। পিচের আচরণ, আউটফিল্ডের গতি, কিছুই তাদের জানা হয়নি। অন্য দলগুলো অন্তত কিছুটা হলেও পড়ে নিতে পেরেছে মাঠটাকে।

বাংলাদেশের হিসাবটাও জটিল। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ভেসে গেলে র্যাংকিং বাংলাদেশকে সেমিতে পৌঁছে দেবে। সেখানে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, আর সেই ম্যাচও যদি বৃষ্টিতে শেষ হয়, তাহলে ফাইনালের টিকিট যাবে পাকিস্তানের হাতে। এশিয়ান গেমসে যে দল টা গিয়েছে সেই দুই দলের শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকা একটি দল, শুধু র্যাংকিংয়ের জোরে উঠে যাবে ফাইনালে।
ক্রিকেটে আবহাওয়ার ভূমিকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেমিফাইনাল আর ফাইনালের ভাগ্য যদি মেঘ আর র্যাংকিং এর ওপর ছেড়ে দিতে হয়, তাহলে যে খেলাটা মাঠে হওয়ার কথা ছিল, সেটা আসলে কোথায় গেল?











