নেশনস লিগে বেলজিয়ামের দাপুটে জয়

উয়েফা নেশনস লিগের লড়াইয়ে তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বেলজিয়াম। মোরেস ডুফ্রাসনে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কেবল গোল সংখ্যায় নয়, বরং মাঠের কৌশলগত ও ট্যাকটিকাল নিয়ন্ত্রণেও প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে বেলজিয়াম।

উয়েফা নেশনস লিগের লড়াইয়ে তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বেলজিয়াম। মোরেস ডুফ্রাসনে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কেবল গোল সংখ্যায় নয়, বরং মাঠের কৌশলগত ও ট্যাকটিকাল নিয়ন্ত্রণেও প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে বেলজিয়াম। ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজেশন এবং হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে জয় নিশ্চিত করে রেড ডেভিলরা।

বেলজিয়াম ৪-৩-৩ ফর্মেশনে মাঠে নামলেও কেভিন ডে ব্রুইনা খেলেছেন ফ্রি রোমিং মিডফিল্ডার হিসেবে। তুরস্কের মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গাগুলোকে দারুণভাবে কাজে লাগান তিনি। ম্যাচের দশ মিনিটে বেলজিয়ামের প্রথম গোলটি আসে ডে ব্রুইনার এই নিখুঁত পজিশনিংয়ের দরুন। তুরস্কের ডিফেন্সিভ ব্লক তাঁর মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হলে একক নৈপুণ্যে জোড়া গোল তুলে নেন এই মিডফিল্ডার।

বেলজিয়াম তাদের আক্রমণভাগ মূলত তুরস্কের ফুলব্যাক জোনে কেন্দ্রীভূত রেখেছিল। মাঠের দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বারবার ক্রস ও লো কাটব্যাক পৌঁছে দেওয়া হয় তুরস্কের পেনাল্টি বক্সে। এতে তুরস্কের ডিফেন্ডারদের বাধ্য হয়ে ওয়াইড এরিয়ায় নজর দিতে হয়, যার ফলে মাঝমাঠে জায়গা তৈরি হয় বেলজিয়ামের সেন্ট্রাল অ্যাটাকারদের জন্য।

তুরস্ক বল পেলেই বেলজিয়াম অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে হাই-প্রেস শুরু করে। তুরস্ক যখনই ব্যাকলাইন থেকে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করেছে, তখনই বেলজিয়ামের মিডফিল্ডাররা পাসিং লেন বন্ধ করে দিয়েছে। এই হাই-প্রেসিংয়ের ফলেই ৫৯ মিনিটে তুরস্কের মিডফিল্ডে একটি ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে বেলজিয়াম তাদের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেয়।

​ম্যাচের শেষভাগে বেলজিয়াম যখন তুরস্ককে ক্লান্ত করে ফেলে, ঠিক তখনই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে আসেন রোমেলু লুকাকু। তুরস্কের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের সাথে শারীরিক লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে ৭৬তম মিনিটে চমৎকার পজিশনিংয়ে ম্যাচের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। তাঁর এই উপস্থিতি বেলজিয়ামের ফিনিশিং লাইনকে আরও ধারালো করে তোলে।

​অন্যদিকে, তুরস্কের ডিফেন্সিভ সেটআপ বেলজিয়ামের পজেশনাল প্লের সামনে স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বেলজিয়ামের কাউন্টার-প্রেসিং সামলাতে না পেরে তুরস্ক ডিফেন্স থেকে মিডফিল্ডে বল সঠিকভাবে সাপ্লাই দিতে পারেনি। তাছাড়া বেলজিয়ামের টার্নওভারগুলোর পর দ্রুত রিকভারি ট্রানজিশনেও চরম ব্যর্থতা দেখায় তুরস্কের রক্ষণভাগ।

​এই ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে নেশনস লিগের পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে গেল বেলজিয়াম, অন্যদিকে টানা তিন হারে তুরস্কের ডেরায় এখন হতাশার কালো মেঘ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link