প্যারিসের স্টেড দে ফ্রান্সে উয়েফা নেশনস লিগের লড়াইয়ে ইতালির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের চোখ ধাঁধানো গোলে স্বাগতিকরা প্রথমে এগিয়ে গেলেও, স্ট্রাকচারাল সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলে আলেসান্দ্রো বাস্তনির গোলে সমতায় ফেরে আজুরিরা। ম্যাচের শেষভাগে ডায়োট উপামেকানোর লাল কার্ড ম্যাচটিতে এনে দেয় নাটকীয় মোড়।
তাত্ত্বিক ও ট্যাকটিকাল দিক থেকে ম্যাচটি ছিল আধুনিক ইউরোপীয় ফুটবলের দুই বিপরীতধর্মী দর্শনের জমজমাট লড়াই।জিদানের পজেশন ভিত্তিক আক্রমণ বনাম ইতালির কাউন্টার প্রেসিং ও লো-ব্লক ডিফেন্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফ্রান্স। জিদান ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দলকে মাঠের ওপরের দিকে ঠেলে দিয়ে দ্রুত গতিতে উইং ব্যবহার করে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে ইতালির জমাট ডিফেন্সিভ ব্লক ফ্রেঞ্চ অ্যাটাকিং থার্ডকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। আজুরিরা ফ্রান্সকে সেন্ট্রাল করিডোর দিয়ে আক্রমণে ওঠার কোনো সুযোগ দেয়নি, ফলে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের ক্রমাগত বাধ্য হয়ে মাঠের ওয়াইড অঞ্চলে নেমে এসে পজেশন সামলাতে হয়।
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ফ্রান্সের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে এক অসাধারণ সেট-পিস থেকে। ইতালি বক্সের ঠিক বাইরে প্রাপ্ত ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল গোলপোস্টের একদম ওপরের ডান কোণে পাঠিয়ে দেন মাইকেল ওলিসে। ইতালির জমাট ডিফেন্সিভ ওয়াল ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফ্রেঞ্চ উইঙ্গার।
পিছিয়ে পড়ার পর ইতালি তাদের আক্রমণাত্মক রূপ উন্মোচন করে। ৬৮তম মিনিটে বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান ইতালির ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তনি। দূর থেকে বাঁ পায়ে নেওয়া তার নিচু ও জোরালো শটটি ফ্রান্সের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সোজা পোস্টের নিচের ডান কোণে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এভাবেই দূরপাল্লার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় আজুরিরা।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচ যখন উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই ৮৪তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। ইতালি ডিফেন্ডারদের ওপর লেট-ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফ্রেঞ্চ সেন্টার-ব্যাক ডায়োট উপামেকানো।
দশ জনের দলে পরিণত হওয়া ফ্রান্সকে ম্যাচের শেষ দশ মিনিট সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে হয়। সুযোগ সুবিধা পেলেও ইতালির স্ট্রাইকাররা সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ১-১ সমতার ফলাফল নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।











