২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশের পেস বিভাগ। সাইড স্ট্রেইনের চোটে ৮ সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন নাহিদ রানা, এখনো পুরোপুরি ফিট নন শরিফুল ইসলাম, চোটে আছেন মুস্তাফিজুর রহমানও। একসঙ্গে তিনজন ফ্রন্টলাইন পেসারকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজের আগে চাপে পড়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
এর বাইরে গত কয়েক মাসে চোটে পড়েছেন তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, তবে পাইপলাইন এখনো এতটা গভীর নয় যে একসঙ্গে তিন-চারজনকে হারিয়েও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে চোখে চোখ রেখে লড়া যাবে। প্রশ্নটা তাই চোট নিয়ে যতটা, তার চেয়ে বেশি ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
ডেটাবেজ বলছে, ১৭ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ে সিরিজ পর্যন্ত নাহিদ বল করেছেন ১৫১.২ ওভার। তিন মাসে এই সংখ্যা একজন নিয়মিত ফাস্ট বোলারের জন্য স্বাভাবিকই। মাসে গড়ে ৫০ ওভার।

কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ার্কলোড শুধু ওভারের সংখ্যায় মাপা হয় না। দেখা হয় কত গতিতে বল করছেন, কতটা হাই-ইন্টেন্সিটি স্পেল করছেন, কত দিনের বিরতিতে খেলছেন।
আর এখানেই নাহিদের কেসটা আলাদা। ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার গতির একজন এক্সপ্রেস বোলারের শরীরে যে চাপ পড়ে, তা ১৩০-১৩৫ গতির বোলারের চেয়ে অনেক বেশি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে ৬১ ওভারের বেশি করার পরও তাকে টানা খেলানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে।
একই চিত্র মুস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রেও। জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম ওয়ানডেতে হ্যামস্ট্রিংয়ে টান, সঙ্গে ডান হাঁটুতে মেনিসকাল সমস্যা – অন্তত চার সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেছেন। এর আগে গোড়ালি ও টো ইনজুরিতে ভুগেছেন, নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর টানা খেলার মধ্যেই ছিলেন।

আর শরিফুল ইসলাম কিছুদিন আগে খেললেও পুরোপুরি ফিট নন। পাকিস্তানের বিপক্ষে গ্রোইন ইনজুরির পর গ্রেড-১ অ্যাডাক্টর স্ট্রেইনে পড়েছিলেন, জিম্বাবুয়ে সিরিজে ফিরলেও এখনো রিহ্যাব ও লোড ম্যানেজমেন্টের মধ্যে আছেন। এর আগে কবজির ফ্র্যাকচার, বোলিং হাতে সেলাই এবং পেটের পেশির চোটে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যেতে হয়েছিল তাকে।
তিনজনের চোট তিন রকম, কিন্তু কমন পয়েন্ট একটাই – টানা ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ড থেকে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ে সফর – প্রায় বিরতিহীন সূচি। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড যেখানে কামিন্স, স্টার্ক, মার্ক উডদের বেছে বেছে খেলায়, সেখানে বাংলাদেশের মূল পেসাররা খেলেছেন সব ফরম্যাটেই।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বহীন টি-টোয়েন্টি সিরিজে নাহিদকে বিশ্রাম দেওয়া যেত কিনা, বা মুস্তাফিজ-শরিফুলকে রোটেশনে রাখা যেত কিনা – সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ২৩ বছর পর আসা অস্ট্রেলিয়া সফরে যেখানে ১৪৫ গতির বোলারই হতে পারত বড় অস্ত্র, সেখানে সফরের আগেই সেই অস্ত্র হারানোর ঝুঁকি কেন নেওয়া হলো, তা নিয়ে আলোচনা থাকবেই। চোট খেলারই অংশ, তবে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কমানোর দায় তো ম্যানেজমেন্টকেই নিতে হবে।












