তরুণ তারকাদের নতুন চ্যালেঞ্জ

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসছে আয়ারল্যান্ড উলভস দল। সফরে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে একটি চার দিনের ম্যাচ, পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে আইরিশরা। আসন্ন এই সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা থাকা এক ঝাঁক ক্রিকেটার যেমন জায়গা পেয়েছেন আয়ারল্যান্ড উলভস দলে; তেমনি বাংলাদেশ ইমার্জিং দলেও দেখা যাবে জাতীয় দলে খেলা সাইফ হাসান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের সাথে যুব বিশ্বকাপ জয়ী একাধিক ক্রিকেটারকে।

আয়ারল্যান্ড উলভসের নেতৃত্বে রয়েছে জর্জ ডকরেল ও হ্যারি টেক্টর। এছাড়াও স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন গ্যারেথ ডিলানি, লরকান টাকার, শেন গেটকেট, জশ লিটল ও স্টিফেন ডোহেনির মতো তারকারা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের সর্বশেষ সিরিজের দলেও ছিলেন এই সাত ক্রিকেটার।

বাংলাদেশ ইমার্জিং দলে জাতীয় দলে খেলা সাইফ হাসান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের সাথে জায়গা পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী আকবর আলী, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হৃদয়, শামীম পাটোয়ারি ও রকিবুল হাসান। এছাড়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ভালো করা আনিসুল ইমনের সাথে জায়গা পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

চলতি মাসের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে তিন দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে একমাত্র চারদিনের ম্যাচ।

একই মাঠে ৫, ৭ ও ৯ মার্চ পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচ খেলার পর ঢাকায় আসবে দুই দল। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১২ ও ১৪ মার্চ সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডে খেলার পর একই মাঠে ১৭ ও ১৮ মার্চ  দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

দুই দলের স্কোয়াড:

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, শাহাদাত হোসেন, মাহমুদুল হাসান জয়, তৌহিদ হৃদয়, আনিসুল ইসলাম ইমন, শামিম পাটোয়ারি, শফিকুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, মোহাম্মদ শাহিদ আলম, সুমন খান, নোমান চৌধুরী সাগর, রেজাউর রহমান রাজা, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, রকিবুল হাসান, তানভির ইসলাম, মোহাম্মদ রিশাদ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও আকবর আলী।

আয়ারল্যান্ড উলভস: মার্ক এডায়ার, কার্টিস ক্যামফার, পিটার চেজ, গ্যারেথ ডিলানি, জর্জ ডকরেল, স্টিফেন ডোহেনি, জনাথন গার্থ, শেন গেটকেট, গ্রাহাম হিউম, জেরেমি লওলর, জশ লিটল, জেমস ম্যাককলাম, নেইল রক, হ্যারি টেক্টর, লরকান টাকার ও বেন হোয়াইট।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link