বিতর্কের ছায়া নিয়েই মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, তবে এবার প্রতিপক্ষের নাম নয়, আলোচনায় রেফারির নাম।
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট রাউন্ড পর্যন্ত আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচেই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ ষোলোয় হারের পর মিসর সরাসরি অভিযোগ তুলেছিল, মেসি ও আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে রেফারির সিদ্ধান্তে। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়ের পর একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল সুইজারল্যান্ডও। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ফিফা কাকে বাঁশি তুলে দেয়, সেদিকে চোখ ছিল সবার।
মার্সিডিজ-বেন্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইসমায়েল এলফাত। তাঁকে সহায়তা করবেন স্বদেশি দুই সহকারী রেফারি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস, আর চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকছেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি। রিজার্ভ সহকারী রেফারির দায়িত্বে আছেন ড্যানিয়েল বিনদোনি।

তবে এই নিয়োগের পেছনে লুকিয়ে আছে নিছক ফুটবলের বাইরের এক গল্পও। ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর এই বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে নিজেদের শেষ ম্যাচ পরিচালনা করে ফেলেছেন, কারণ ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা দুই দলই সেমিফাইনালে ওঠায় ফিফা কোনো ইংলিশ রেফারিকেই বিবেচনায় রাখেনি। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ফিফা দীর্ঘদিন ধরেই ইংলিশ রেফারিদের আর্জেন্টিনার ম্যাচে রাখে না, একইভাবে রাখে না আর্জেন্টাইন রেফারিদেরও ইংল্যান্ডের ম্যাচে। ঊনিশশো বিরাশি সালের সেই যুদ্ধের রেশ এখনো এতটাই প্রবল যে, ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠলেও অলিভার-টেলর কারও ভাগ্যে জুটবে না ফাইনাল পরিচালনার সুযোগ।
এই বিশ্বকাপে এলফাতের হাতে বাঁশি উঠেছে তিনবার—গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস-জাপান ও উরুগুয়ে-স্পেন, এবং শেষ ষোলোয় ব্রাজিল-নরওয়ে। শেষ ম্যাচটিতে নরওয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিলকে।
চুয়াল্লিশ বছর বয়সী এই রেফারির জন্ম মরক্কোয়। আঠারো বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি, এখন থাকেন টেক্সাসে। এমএলএসে বাঁশি বাজাচ্ছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে, ফিফার আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত হন কয়েক বছর পর। কাতার বিশ্বকাপ ছিল তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ফাইনালে চতুর্থ রেফারির দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি।

দুবার এমএলএসের বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতি পাওয়া এলফাতের সামনে এখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিতর্কে জর্জরিত এক টুর্নামেন্টে, রাজনৈতিক ইতিহাসের ভারে ভারী এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে—তিনি কি পারবেন নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সব সমালোচনা থামিয়ে দিতে?











