মাঠের লড়াই ছিল একপাশে। যদিও সব ছাপিয়ে আলোচনায় এখন একটাই বিষয়—ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মেলালেন না, কোনো সৌজন্যতা দেখালেন না। আর এই সিদ্ধান্তের আড়ালে ছিলেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
এশিয়া কাপের মঞ্চে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করল ভারত। ১২৭ রানে আটকে দিল প্রতিপক্ষকে, তারপর মাত্র ১৬ ওভারের মধ্যে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে টপকে গেল লক্ষ্য। জয়সূচক ছক্কা হাকিয়েই মাঠ ছেড়ে গেলেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব, কারও সঙ্গে সৌজন্যতা দেখিয়ে হাত মেলালেন না।
ম্যাচ শেষে বললেন, সব জায়গায় স্পোর্টসম্যানসুলভ ব্যবহার দেখানো যায় না। খেলোয়াড়রা কোচ আর অধিনায়কের সেই নির্দেশই মেনে চলেছেন হুবহু। ম্যাচ শেষে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ভারতীয় ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে চাইলেও সেই দরজা বন্ধ ছিল।

ম্যাচের আগেই ড্রেসিংরুমে গম্ভীর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার শব্দ থেকে দূরে থাকো। তোমাদের কাজ কেবল ভারতের জন্য খেলা। পাকিস্তান কি করেছে সেটা ভুলে গেলে চলবে না।। পাকিস্তানিদের সঙ্গে কোনো হাত মেলানো নয়, কোনো সৌজন্য নয় — শুধু মাঠে নামো, সেরাটা দাও, ভারতের জন্য জিতে আসো।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি ছিল, ম্যাচ বয়কটের ডাক ছিল স্যোশাল মিডিয়ায়। মাঠের লড়াই এড়ানো হয়নি, তবে গম্ভীরের পরিকল্পিত সৌজন্যহীনতা যেন বার্তা দিয়েই গেল — এ লড়াই কেবল ক্রিকেট নয়, এর ভেতরে আছে রাজনৈতিক আবহ।
ম্যাচ শেষে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, ‘ভালো জয় পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশের মুখ উজ্জ্বল করা আর দেশের সবাইকে খুশি করা।’

গৌতম গম্ভীরের এই পরিকল্পনা শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও ছাপ ফেলেছে। সুপার ফোরে আবারও পাকিস্তানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার দুয়ারে আছে ভারত, কেমন আগুন ঝরবে সেদিন — সেটা নিশ্চয়ই আগাম আন্দাজ করা যায়।









