তিন নম্বরের সমাধান পান্ত–জুরেলের হাতে!

ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিজেদের আভিজাত্য ধরে রেখেছে সফেদ পোশাকে। শুভমান গিলের হাতে ধরা দল দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরও অপ্রতিরোধ্য। তাতেও কি দুশ্চিন্তার চোখ রাঙানি কমছে? ভারতের ওই দুর্ধর্ষ ব্যাটিং অর্ডারে যে চাঁদের কলঙ্কের মতন তিন নম্বর পজিশনটা। কোন কিছুতেই যেন সমাধান মেলানো যাচ্ছে না এখানে। তবে এই সমস্যার সমাধান মিলাতে পারেন ধ্রুব জুরেল এবং ঋষভ পান্ত মিলে।

ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিজেদের আভিজাত্য ধরে রেখেছে সফেদ পোশাকে। শুভমান গিলের হাতে ধরা দল দিনে দিনে হয়ে উঠছে আরও অপ্রতিরোধ্য। তাতেও কি দুশ্চিন্তার চোখ রাঙানি কমছে? ভারতের ওই দুর্ধর্ষ ব্যাটিং অর্ডারে যে চাঁদের কলঙ্কের মতন তিন নম্বর পজিশনটা। কোন কিছুতেই যেন সমাধান মেলানো যাচ্ছে না এখানে। তবে এই সমস্যার সমাধান মিলাতে পারেন ধ্রুব জুরেল এবং ঋষাভ পান্ত মিলে।

জুরেল ভারতের একাদশে ঠিকঠাক সুযোগ পান না। দলে তাঁর ভূমিকা কেবলই ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে। তবে সুযোগ পেলে যে তিনিও কম যান না, তা দেখালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনবদ্য এক শতক হাঁকিয়ে। এই ভাগ্যের দুয়ার অবশ্য খুলেছে ঋষাভের চোটের কারণে।

টেস্টে জুরেলের অভিষেক ঘটে ২০২৪ সালে, এরপর থেকে মাত্র ছয়টি টেস্ট খেলার সুযোগ মিলেছে তাঁর। তবুও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিতে ভুল করেননি একচুলও। যে ঋষভের কারণে সুযোগ মেলেনা,  প্রথম নয় ইনিংসের গড়ের হিসেবে তাকেই ছাড়িয়ে গেছেন জুরেল।

নয়টি ইনিংসে জুরেল করেছেন ৩৪৩ রান, গড় ৪৯, নামের পাশে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি। আর ঋষাভের একই সময়ের পরিসংখ্যান— ৯ ইনিংস, ৩৭১ রান, গড় ৪১.২২, আছে দুই ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। অর্থাৎ দুইজনের পারফরম্যান্স প্রায় সমান। তবে ঋষাভ আসলে আবারও বেঞ্চেই চলে যেতে হবে জুরেলকে। তাই তো এই দুজনকে একসঙ্গে খেলালে ভারতের বড় সমাধান হতে পারে।

সমস্যার জায়গায় এবার ফিরে আসা যাক। বিরাট কোহলির টেস্ট অবসরের পর গিলকে নামানো হয়েছে চার নম্বরে। আর তাতেই যেন তিন নম্বরের মহাগুরুত্বপূর্ণ পজিশনে চলছে রান খরা। কারুণ নায়ার এবং সাই সুদর্শনকে সেখানে পরীক্ষা করা হলেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নায়ার এই পজিশনে চার ইনিংসে করেছেন ১১১ রান, গড় ২৭.৭৫। আর সাই সুদর্শন সাত ইনিংসে ১৪৭ রান করেছেন, গড় ২১—পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ধ্রুব জুরেল ও ঋষাভ পান্তকে একসঙ্গে খেলালে তিন নম্বর সমস্যার কার্যকর সমাধান মিলতে পারে। জুরেল এবং পান্ত দুজনেই মিডল অর্ডার ব্যাটার। সেক্ষেত্রে তাঁদের তিনে খেলানো একপ্রকার অর্থহীন। এক্ষেত্রে গিলকে একধাপ ওপরে ওঠানো যেতে পারে। তিনি পরীক্ষিত টপ অর্ডার ব্যাটার, তাই তো এই পজিশনে সমস্যা হওয়ার কথা না তাঁর। তবে প্রশ্ন আসতে পারে, চার নম্বরে তবে কে?

উত্তরটা, ঋষাভ পান্ত। মিডল অর্ডারের গুরুদায়িত্ব থাকবে তাঁর উপর। আর জুরেলের ঠিকানা পাঁচেই। এতে ব্যাটিং অর্ডারের ভারসাম্য ঠিক থাকবে, নতুন প্রতিভা সুযোগ পাবে এবং ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ আরও শক্তিশালী হবে।

কেবল ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়, জুরেলের কিপিং দক্ষতাও অতুলনীয়। পান্তের সঙ্গে জুরেল থাকলে কিপিংয়ে রোটেশন সহজ হবে এবং একইসঙ্গে ব্যাটিং আক্রমণও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। যদিও এটা এক চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত, তবে ধ্রুব জুরেল ও ঋষাভ পান্ত দুজনকে একসঙ্গে খেলানো যৌক্তিক এবং সম্ভাবনাময়ও বটে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link