এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত!

১৯৯৯ বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে এসেই পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

২০২২ নারী বিশ্বকাপ। এবারও প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ খেলতে এসেই পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ দল।

পুরুষদের দলের ২৩ বছর পর প্রথমবারের মত ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাল বাংলাদেশের মেয়েরা। পাকিস্তান নারী দলকে ৯ রানে হারিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার জয়ের দেখা পেল নিগার সুলতানার দল ফারজানার ফিফটির পর ফাহিমা খাতুনের জাদুকরী স্পেলে নিশ্চিত হয় জয়।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ওপেনিং জুটিতে ৩৭ রান তুলে দুই বাংলাদেশি ওপেনার। এরপর শামিমা সুলতানা ১৭ রানে ফিরলে দ্বিতীয় উইকেটে ভীত গড়েন শারমিন আক্তার ও ফারজানা হক। দু’জনে মিলে ৪২ রানের জুটির পথে দলকে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দেন।

এরপর ৭৯ রানে হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতে শারমিন আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত ফিফটি তুলে নেন ফারজানা। সাথে সঙ্গী হিসেবে যোগ্য সমর্থন দেন

অধিনায়ক নিগার সুলতানা। দু’জনে মিলে তৃতীয় উইকেটে গড়েন ৯৬ রানের জুটি!

এরপর দলীয় ১৭৫ রানে নিগার ৪৬ রানে ফিরলেও ফারজানার ৭১ ও সালমার অপরাজিত ১০ রানে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৩৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ নারী দল। পাকিস্তানের পক্ষে নাশরা সান্ধু শিকার করেন ৩ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই ৯১ রান তুলে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান দুই পাকিস্তানি ওপেনার নাহিদা খান ও সিদ্র আমিন। দলীয় ৯১ রানে ব্যক্তিগত ৪৩ রানে নাহিদা ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে বিসমাহ মারুফের সাথে ৬৪ রানের জুটির পথে ফিফটির দেখা পান সিদ্র আমিন। ১৫৫ রানে বিসমাহ মারুফ ৩১ রানে ফিরলে তৃতীয় উইকেটে ২৮ রানের জুটির পথে ওমামিমা সোহেলের সাথে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেন আমিন।

এরপরই ফাহিমা খাতুনের ম্যাজিকাল বোলিংয়ে পাকিস্তানের ছন্দপতন! ৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট! জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা পাকিস্তান তখন হারের মুখে। তবে দলের শেষ ভরসা সিদ্র আমিন তখনো ক্রিজে। ১৮৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে পাকিস্তান।

অষ্টম উইকেটে ২১ রানের জুটির পথে আবারও দলকে আশা দেখান ডায়ানা বেগ ও সিদরা আমিন। এরপর ২০৮ রানে দিয়ানা ১২ রানে ফিরলে শেষ ২ ওভারে তখন পাকিস্তানের দরকার ১৯ রানের, হাতে ২ উইকেট। একপ্রান্তে ততক্ষণে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন সিদরা আমিন!

৪৮ তম ওভারের পঞ্চম বলে সিদরা রান আউটের শিকার হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২২৫ রান করলে ৯ রানের এক ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ নারী দল!

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক ফারজানা হক।
  • সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ নারী দল – ২৩৪/৭ (৫০ ওভার); ফারজানা ৭১ (১১৫), নিগার ৪৬ (৬৪), শারমিন ৪৪ (৫৫); নাশরা সান্ধু ১০-০-৪১-৩, নিদা দার ১০-০-৪৫-১।

পাকিস্তান নারী দল – ২২৫/৯ (৫০ ওভার); সিদ্রা আমিন ১০৪ (১৪০), নাহিদা ৪৩ (৬৭), বিসমাহ ৩১ (৪৮); ফাহিমা ৮-০-৩৮-৩, রুমানা ৭-০-২৯-১।

ফলাফল: বাংলাদেশ নারী দল ৯ রানে জয়ী।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link