রাত জাগা গিটারের সুর

আনন্দবাজারের প্রথম পাতার ডানদিকে একটা ছোট্ট হেডলাইন – ‘অঙ্ক বা ছক নয়, স্বভাব-দক্ষতাই নায়ক’। স্বয়ং চুনী গোস্বামীর লেখা।

আরো পড়ুন

দলটা কার্যত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব টপকে মূলপর্বে। বিশ্ব সেরা ‘নাম্বার নাইন’ রোনালদের তখন একটা হাঁটু বিপর্যস্ত। রিভালদো সেই ফর্মে নেই, যে ফর্মে বার্সাতে মৌসুম কাটিয়েছে। সদ্য আগত এক দাঁত উঁচু পনিটেল, পরবর্তীতে যে জিনিয়াস আখ্যা পাবে! সাম্বা ম্যাজিক শুরুতে দেখাই যায়নি প্রায়।

অপরদিকে মার্সেলো বিয়েলসার কোচিংয়ে আর্জেন্টিনার স্বপ্নের উত্থান। গ্রুপ পর্ব থেকে মূলপর্বে এসেছে স্রেফ এক অসাধারণ ফুটবল খেলে।

আসলে, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভরা দলটি একটা জায়গা খুঁজে বেড়িয়েছিল। নিজেদের মধ্যে যে প্রতিভা, যে দক্ষতা রয়েছে তা বিশ্বের কাছে প্রদর্শনের একটা প্ল্যাটফর্ম, সেটাই বিশ্বকাপে করে দেখাল।

শুধু স্কিল, অসাধারণ পাসিং অ্যাবিলিটি, ড্রিবলের উপর নির্ভর করে একে একে ইংল্যান্ড, তুরস্ক, জার্মানি – ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাইকেল ওয়েন এগিয়ে গেলেও ঐ যে দাঁত উঁচু রোনালদিহোর ফ্রি-কিক, ঐশ্বরিক ডান পায়ে ওভাবে সোয়ার্ভিংয়ে গোল, ওটাই টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল টিমটার জেতার ক্ষেত্রে।

‘পারব’ মনোভাবটা ছিটকে বের করার জেদ অন্য সবকিছুর চেয়ে আলাদা। তাই, বারবার পাঁচ বার।

বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিল কখনও প্রেমিক, কখনও তারুণ্যের প্রতীক, কখনও হতাশ, ব্যর্থ মানুষ। তাদেরকে কখনও ভালোবাসা যায়, কখনও ঘৃণায় মুখ ফিরিয়েও নেওয়া যায়, কিন্তু তাদেরকে ইগনোর? নৈব নৈব চ! একটা হাঁটু নিয়ে বিশ্বজয় করা শ্রেষ্ঠ ‘নাম্বার নাইন’ ফাইনালের শেষে গায়ে হলুদ-সবুজ পতাকা লাগিয়ে ঘুরছে, আর পাঁচ বছরের একটা ছেলের ফুটবলের প্রতি ভালবাসা জাগিয়ে দিচ্ছে।

বুঝিয়ে দিচ্ছে ফুটবল শুধু অঙ্কের কাটাছেঁড়া নয়, ছোট্ট স্কোয়্যার পাস, ইনস্টেপ-আউটস্টেপ ড্রিবলের মধ্যে লেগে থাকে ভালবাসার সূক্ষ্ম ছোঁয়া। শিখিয়ে দিচ্ছে লাতিন আমেরিকার টাচ ফুটবল ঘরানা এবং ইউরোপিয়ান ট্যাকটিক্যাল ফুটবল ঘরানার মধ্যে পার্থক্যকে।

লাতিন আমেরিকান ফুটবলের ছোঁয়াকে ভাললাগার অশেষ উপাদান যোগান দিচ্ছে ঐ হলদে জার্সিধারীরা, যাদের পায়ের ড্রিবলে ফুটবল প্রেমিক থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে উঠছে।

পারো তো ভালবেসে কাছে টেনে নিও। সাম্বা শুধু একটা ফুটবল ঘরানার দৃষ্টান্ত নয়, সাম্বা কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের রাত জাগা গিটারের সুর।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link