জোড়া গোলে বেলজিয়ামের নায়ক কেভিন ডে ব্রুইনা

বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা এবং মাঠের আসল নিয়ন্ত্রক যে এখনও তিনিই - উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্কের বিপক্ষে আরও একবার তার প্রমাণ দিলেন কেভিন ডে ব্রুইনা।

বয়স যে কেবলই একটি সংখ্যা এবং মাঠের আসল নিয়ন্ত্রক যে এখনও তিনিই – উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্কের বিপক্ষে আরও একবার তার প্রমাণ দিলেন কেভিন ডে ব্রুইনা। মোরেস ডুফ্রাসম স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের ৩-০ গোলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো। কেবল জোড়া গোলই নয়, পুরো ম্যাচের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন বেলজিয়ান তারকা।

​ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই বেলজিয়ামের প্রতিটি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন কেভিন ডে ব্রুইনা। ফ্রি-রোমিং রোল পেয়ে মাঠে নিজের ইচ্ছেমতো খালি জায়গা বা ‘হাফ-স্পেস’ খুঁজে নেন তিনি। তুরস্কের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা তাকে মার্ক করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন।

ম্যাচের ঠিক দশম মিনিটে তাঁর অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে প্রথম গোলের দেখা পায় বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঠিক বাইরে জায়গা তৈরি করে নেওয়া এবং বল জালে জড়ানোর দৃশ্যটি ছিল পুরোটাই তাঁর ব্যক্তিগত কারিশমা।

দ্বিতীয় অর্ধ্বেও ডে ব্রুইনার আক্রমণের ধার কমেনি। ৫৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বল কেড়ে নেওয়ার পর ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের দ্বিতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন তিনি।

তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসি এবং ফাইনাল থার্ডে নিখুঁত সব থ্রু-বল তুরস্কের রক্ষণভাগকে পুরো ৯০ মিনিট ব্যস্ত রাখতে বাধ্য করে। মূলত মাঝমাঠে তাঁর দূরদর্শিতা ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্তই বেলজিয়ামকে ম্যাচ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে।

মাঠে কেবল প্লে মেকিং বা গোল করাই নয়, মাঝমাঠে দলকে যেভাবে প্রেসিং ফুটবলে পরিচালিত করেছেন ডে ব্রুইনা, তা ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ খেলোয়াড়দের পজিশনিং নির্দেশ করা থেকে শুরু করে আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণ – সবখানেই ছিল তাঁর অভিজ্ঞতার ছাপ। ৭৬ মিনিটে লুকাকুর গোলটির আক্রমণের শুরুটাও হয়েছিল তার পা থেকেই।

​তুরস্কের রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড ডে ব্রুইনার এই জাদুকরী পারফরম্যান্স থামানোর কোনো উপায় খুঁজে পায়নি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরও তাঁর এমন ধারাবাহিকতা ও ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। নেশনস লিগে বেলজিয়ামের এই বড় জয়ের মূল নায়ক যে কেভিন ডে ব্রুইনা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link