অচেনা ভূমির ক্রিকেট সন্তানেরা

ক্রিকেট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু ক্রিকেটার সেই সীমানা পেড়িয়েছেন।  তাঁরা এক দেশে জন্মে আরেক দেশে গিয়ে সেখানকার হয়ে ক্রিকেট খেলেছে। শুধু অন্য দেশ থেকে নয়, এমন দেশ থেকে এসেছে সেখানে ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে কেউই তেমন কিছু জানে না।

সারা বিশ্বের কাছে ক্রিকেট খুব বেশি জনপ্রিয় না। কারণ, ফুটবল বা অন্য অনেক খেলার যে পরিমান বিশ্বায়ন হয়েছে – ক্রিকেটে তা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিছু দেশে ক্রিকেট আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ক্রিকেট কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু ক্রিকেটার সেই সীমানা পেড়িয়েছেন।  তাঁরা এক দেশে জন্মে আরেক দেশে গিয়ে সেখানকার হয়ে ক্রিকেট খেলেছে। শুধু অন্য দেশ থেকে নয়, এমন দেশ থেকে এসেছে সেখানে ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে কেউই তেমন কিছু জানে না।

সারা বিশ্বে এমন কিছু ক্রিকেটার আছে যাদের জন্ম ক্রিকেট খেলা পরিচিত নয় এমন কিছু দেশে। সেখান থেকে উঠে এসে তাঁরা ভিন্ন দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলে অবস্থান করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

  • জন ট্রাইকস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

জন ট্রাইকোসের জন্ম মিশরে, যার সাথে ক্রিকেটের বহুদূরেও কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের হয়ে।

এই অফ স্পিনারের ক্যারিয়ারে অভিষেক দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৯৭০ সালে। তিনি ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৭ টেস্ট এবং ২৭ ওয়ানডে। ১৯৯৩ সালে জিম্বাবুয়ের হয়ে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন জন ট্রাইকোস। মানে তিনি মিশর থেকে এসে ভিন্ন দু’টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের হয়ে খেলেছেন। অভিন এক জীবন।

  • ময়েস হেনরিক্স (অস্ট্রেলিয়া)

সারা বিশ্বের বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজি লিগের অন্যতম আকর্ষণ হলেন তিনি, মানে ময়েস হেনরিক্স। অনেকেই জানেন না এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের জন্ম পর্তুগালে।

ময়েস হেনরিক্স প্রথমে ছিলেন পর্তুগিজ ক্রিকেটার। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এই ৩৪ বছর বয়সী মূলত পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

  • অশোক গানদোত্রা (ভারত)

অশোক গানদোত্রা ভারতের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার। তাঁর জন্ম ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে। ফুটবলের দেশে জন্ম হবার পরও ক্রিকেটে খেলেছেন অশোক।

অশোকের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অভিষেক হয় ১৯৬৯ সালে। ওই বছরে ভারতের হয়ে দু’টি টেস্ট খেলেন তিনি। দুই টেস্টে রান করেছেন ৫৪ রান। দুই টেস্টের পাশাপাশি ৫৪ টি প্রথম শ্রেনীর ম্যাচ খেলেন তিনি।

  • সাইফ হাসান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশের এই ওপেনারকে চাইলে বহুজাতিক ক্রিকেটার বলা যায়। তাঁর বাবা বাংলাদেশি, মা শ্রীলঙ্কান। তিনি খেলেন বাংলাদেশের হয়ে। জন্ম আবার সৌদি আরবে। বাবার চাকরির সূত্রে সেখানে শৈশব কাটে সাইফের।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এরই মধ্যে টেস্ট অভিষেক হয়ে গেছে। খেলেছেন দু’টি টেস্ট।

  • ইমাদ ওয়াসিম (পাকিস্তান)

ইমাস ওয়াসিমের জন্ম ওয়েলেসের সোয়ানসি শহরে। তিনি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। বিশ্বের প্রায় সব ফ্রাঞ্চাইজি লিগে ইমাদ ওয়াসিমের চাহিদা থাকে।

ইমাদ ওয়াসিম এখনো পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট খেলতে পারেননি। কিন্তু ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রঙিন পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারে পরিনত হয়েছেন।

  • ফ্রেডি ব্রাউন (ইংল্যান্ড)

ফ্রেডি ব্রাউন ইংল্যান্ডের হয়ে ২২ বছর খেলেছেন। এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১৯৩১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ২২ টেস্ট খেলেন।

ফ্রেডি ব্রাউনের জন্ম পেরুর রাজধানী লিমাতে। ব্রাউন শুধু ব্যাটিং করতে নয়, মিডিয়াম পেস বোলিং এবং লেগ স্পিন করতে পারতেন।

  • আমজাদ খান (ইংল্যান্ড)

আমজাদ খান ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার। ইংল্যান্ডের হয়ে ২০০৯ সালে একটি করে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি খেলছেন। বোঝাই যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ার খুব বড় নয়।

আমজাদ খানের জন্ম ডেনমার্কের কোপেন হেগেনে। ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ার বড় না হওয়ায় তিনি আবারো ডেনমার্কে ফিরে সেখানকার ক্রিকেটে থিতু হয়েছেন।

  • জিহান মোবারক (শ্রীলঙ্কা)

জিহান মোবারকের নাম শুনলেই মনে পড়বে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর মারকাটারি ব্যাটিংয়ের কথা। তবে, তাঁর মূল পরিচয় হল – তিনি একজন ব্যাটি জানা পেস বোলার।

জিহান মোবারক শ্রীলঙ্কার হয়ে ১৩ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে এবং ১৬ টি-টোয়েন্টি খেলেন। সামর্থ্যের পুরোটা তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। জিহান মোবারকের জন্ম আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি-তে। পরবর্তীতে তিনি শ্রীলঙ্কায় স্থায়ী হন, আর শ্রীলঙ্কার হয়েই ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

  • ডিক ওয়েসকট (দক্ষিণ আফ্রিকা)

পর্তুগালে জন্ম নেওয়া আরেক ক্রিকেটার। জন্ম ১৯২৭ সালে। সাবেক এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে, পঞ্চাশের দশকে।

পাঁচ টেস্টে তাঁর রান মাত্র ১৬৬। সর্বোচ্চ ইনিংস ৬৬ রানের। পর্তুগালে জন্ম নেওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। ২০১৩ সালে ৮৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

  • ডোনাল্ড ক্যার (ইংল্যান্ড)

জার্মানিতে এক সময় ক্রিকেট নিষিদ্ধ ছিল। সেই দেশে জন্ম তাঁর। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে অভিষেক। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই ভারতের বিপক্ষে তিনি অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচেই তিনি অধিনায়ক। করেন দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১৪ ও ৭১ রান।

মাদ্রাজে সিরিজের দ্বিতীয় সেই ম্যাচটা হারে ইংল্যান্ড। সেবারই প্রথমবারের মত ইংল্যান্ড ভারতে গিয়ে টেস্ট হারে। এমন অধিনায়কত্বের পর আর কখনোই জাতীয় দলে খেলা হয়নি তাঁর। তবে, প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ২০ হাজারের মত রান আছে তাঁর।

  • লাল সিং (ভারত)

তিনি ভারতের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সেটাই তাঁর প্রথম ও শেষ টেস্ট। দুই ইনিংসে করেন যথাক্রমে ১৫ ও ২৯ রান। লাল সিংয়ের জন্ম ১৯০৯ সালের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। প্রথম শ্রেণিতে খেলেন ৩২ টি ম্যাচ।

  • পল টেরি (ইংল্যান্ড)

জার্মানিতে জন্ম নেওয়া আরেক ক্রিকেটার। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় ১৯৮৪ সালে। মাত্র দুই টেস্ট খেলেন। তবে, ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬ হাজারের ওপর রান করেন।

পলের ছেলে শন টেরিও ক্রিকেটার। তবে, তিনি খেলেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে। আইরিশদের হয়ে পাঁচ ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি।

  • টেড ডেক্সার (ইংল্যান্ড)

আরেকজন ইংলিশ ক্রিকেটার। তিনি টেড ডেক্সটার। ১৯৩৫ সালে তাঁর জন্ম হয় ইতালির মিলানে। তিনি ইংল্যান্ড দলের নেতৃত্বও করেছেন।

তাঁর ক্যারিয়ার শেষ সমৃদ্ধ। ৬২ টি টেস্ট খেলেছেন। তাতে নয়টি সেঞ্চুরি ও ২৭ টি হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে করেছেন সাড়ে চার হাজার রান।

  • তানভির আহমেদ (পাকিস্তান)

অভিষেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঝড় তোলেন। প্রথম পাঁচ টেস্টে নেন ১৭ উইকেট। কিন্তু এরপরই দল থেকে বাদ পড়েন। এছাড়া খেলেন দুই ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি। ১৯৭৮ সালে এই ডান হাতি পেসারের জন্ম হয় কুয়েতে।

  • ডেভিড আয়রনসাইড (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে পঞ্চাশের দশকে তিন টেস্ট খেলেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেন ম্যাচ খেলেন ৩১ টি। বোঝাই যাচ্ছে, বড় কোনো ক্রিকেটার ছিলেন না। ১৯২৫ সালে তাঁর জন্ম মোজাম্বিকে, ২০০৫ সালে মারা যান ইংল্যান্ডে।

  • ফিল এডমন্ডস (ইংল্যান্ড)

১৯৫১ সালে নর্দার্ন রোডেশিয়া, মানে এখনকার জাম্বিয়াতে জন্ম হয় তাঁর। এমন একটা সময় খেলেছেন যখন ছিল পেসারদের দাপট। ওই অবস্থাতেও বাঁ-হাতি স্পিনার হিসেবে খেলেছেন ৫১ টি টেস্ট।

 

প্রথম ১৩ টেস্টে ২১-এর নিচে গড় নিয়ে পান ৪৩ টি উইকেট। সেই ধারাবাহিকতা পরে না থাকলেও ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ১২৫ টি উইকেট নিয়ে, গড় ৩৪-এর ওপরে। টেস্টে দু’টো হাফ সেঞ্চুরিও আছে তাঁর। এছাড়া ২৯ ওয়ানডেতে নিয়েছেন ২৬ টি উইকেট।

  • কেনিথ বাম বাম উইকস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। তিনি স্বয়ং ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার এভারটন উইকসের কাজিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুই টেস্ট খেলেন। একটা সেঞ্চুরিও ছিলেন। ছিলেন পুরোদস্তর ব্যাটসম্যান। উইকেটরক্ষক হিসেবেও মন্দ ছিলেন না।

  • জর্জ হেডলি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

তাঁকে তো পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ানকে বলা হত ‘দ্য ব্ল্যাক ব্র্যাডম্যান’। ১৯০৯ সালে তাঁর জন্ম হয় পানামাতে।

ব্যাটিং গড় ছিল ঈর্ষণীয় – ৬০.৮৩ টেস্টে আর প্রথম শ্রেণিতে ৬৯৮৬। টেস্টে ৫০-এর ওপর ইনিংসকে টেনে নিয়ে গেছেন ১৫ বার। এর মধ্যে ১০ টিই হয়েছে সেঞ্চুরি। বোঝাই যাচ্ছে তাঁর কনভার্সন রেট কতটা ভাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...