ঘুষের জবাব কাতারের

কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন হওয়ার ঘোষণার পর থেকে অনেক সমালোচনার তীর ছোড়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাগতিক দেশ হিসেবে গ্রুপের অন্যান্য দেশ সমূহকে ঘুষ দেয়ার মাধ্যমে নিজেদের ম্যাচগুলোতে বাড়তি সুবিধা পাবার এক গুজব ছড়িয়েছে সমস্ত ইন্টারনেট জুড়ে। আর এই নিয়েই মুখ খুলেছেন কাতার ফুটবল দলের কোচ ফেলিক্স সানচেজ।

বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নামার পূর্বে  সংবাদ সম্মেলনে সানচেজ বলেন, ‘ইন্টারনেট খুবই ভয়ংকর একটা জায়গা। আমি জোর দিয়েই বলছি আমার দলের খেলোয়াড়েদের সততা নিয়ে যে গুজব রটেছে তা থেকে যথেষ্ট দূরে রয়েছি আমরা।’

স্বাগতিক দেশ হিসেবে গ্রুপ এ তে লড়বে কাতার।গ্রুপের অন্যান্য দল ইকুয়েডর, নেদারল্যান্ডস এবং সেনেগাল সবার বিপক্ষেই ধারেভারে কিছুটা পিছিয়ে থেকেই শুরু করবে কাতার।কিন্তু দল যদি খারাপ পারফর্ম করে তবে তার অজুহাত হিসেবে মাঠের বাইরের এইসব গুজবকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না ফেলিক্স।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে এখানে অনেক মিথ্যা তথ্য রয়েছে। ইন্টারনেট অনেক ভাল জায়গা কিন্তু সাথে সাথে এটা ভয়ংকর জায়গাও বটে।অনেক বছর ধরে দল হিসেবে আমার খেলোয়াড়েরা একসাথে আছে,একসাথে থাকছে খেলছে এবং আমরা সুসংবদ্ধ। মাঠের বাইরের এসব গুজব ছড়িয়ে কেউ যদি আমাদের ভেতরের একতা  নষ্ট করতে পারবে না। আর এসব গুজব আমাদের প্রভাবিত করতে পারেনি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলা নিয়েই উত্তেজিত।আর সেজন্য আমরা কিভাবে ম্যাচটা খেলব,কিভাবে নিজেদের আবেগ কে নিয়ন্ত্রণ করব সেসব নিয়েই ভাবছি, এ বাদে অন্য কোনো কিছুই এই মুহূর্তে আমাদের মাথায় নেই। একজন ফুটবলারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কাজ হচ্ছে শান্ত থেকে সব ধরনের গুজবকে সরিয়ে রেখে নিজের খেলাটা মাঠে খেলা,আর আমরা সেটাই করতে চাইছি।’

সানচেজ আরও বলেন, ‘কেউ আমাদের নিয়ে সমালোচনা করছে তা অবশ্যই আমাদের পছন্দ না।  বিশেষ করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে আমরা অনেক বছর যাবৎ প্রস্তুতি নিচ্ছি।দলের খেলোয়াড়েরাও ভাল করার জন্য মুখিয়ে আছে। প্রথম ম্যাচে আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েই মাঠে লড়ব।’

বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টায় ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে কাতার। এই ম্যাচ দিয়েই আনুষ্ঠানিক ভাবে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link