যাদের হারিয়ে যাওয়ার মূলে রবি শাস্ত্রী

দারুণ এক স্কোয়াডের পাশাপাশি দুর্ধর্ষ এক পেস বোলিং লাইন আপ তৈরি করায় বরাবরই প্রশংসিত হয়েছেন শাস্ত্রী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর সময়েই শেষ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার।

ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ ছিলেন রবি শাস্ত্রী। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত ভারতের কোচের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই সময়টাতে ভারত কোনো আইসিসি ট্রফি জিততে না পারলেও ঘরের বাইরে টেস্ট জিততে শুরু করে।

দারুণ এক স্কোয়াডের পাশাপাশি দুর্ধর্ষ এক পেস বোলিং লাইন আপ তৈরি করায় বরাবরই প্রশংসিত হয়েছেন শাস্ত্রী। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর সময়েই শেষ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার। আসুন দেখে নেয়া যাক পাঁচ ক্রিকেটারকে যাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছিল শাস্ত্রীর কোচিং আমলে।

  • মুরালি বিজয়

২০১৮ সালের শেষভাগ পর্যন্তও ভারতের হয়ে টেস্টে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমেছেন মুরালি বিজয়। কিন্তু বোর্ডার – গাভাস্কার ট্রফি শুরুর আগে দলে নতুন ওপেনার হিসেবে ডাক পান মায়াংক আগারওয়াল। অভিষেক সিরিজেই দারুণ পারফর্ম করেই দলে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করে ফেলেন এই ওপেনার। 

ফলে দলে নিজের জায়গা হারান মুরালি বিজয়। এরপর আর কখনোই শাস্ত্রীর দলে জায়গা পাননি তিনি। 

  • রবিচন্দ্রন অশ্বিন

বর্তমানে ভারতীয় দলের নিয়মিত মুখ হলেও রবি শাস্ত্রীর আমলে সাদা বলের ক্রিকেট থেকে একপ্রকার নির্বাসিত ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ওডিয়াই এবং টি-টোয়েন্টিতে পর্যাপ্ত সুযোগ পাবার আগেই দল থেকে বাদ পড়েন এই অফস্পিনার।

অথচ শাস্ত্রীর আগমণের আগের সময়টাতে দলের নিয়মিত মুখ ছিলেন অশ্বিন। ২০১৬ সালেও জাতীয় দলের হয়ে ১৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। কিন্তু শাস্ত্রী দায়িত্ব নেবার পর ২০১৭ সালে একটি এবং ২০২১ সালে পাঁচটি টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পান তিনি। মাঝের তিন বছরে কোনো টি-টোয়েন্টিতেই দলে জায়গা হয়নি তাঁর। রাহুল দ্রাবিড় নতুন কোচ হয়ে আসার পর যেন পুর্নজন্ম হয় অশ্বিনের, গত দুই বছরে ১৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন তিনি।

ওয়ানডেতেও একই অবস্থা, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কোনো একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দলে জায়গা পাননি তিনি। অবশেষে ২০২২ সালে দুইটি ওডিয়াইতে একাদশে সুযোগ মেলে অশ্বিনের। শাস্ত্রীর সময়কালে সাদা বলের ক্রিকেটে বরাবরই অবহেলার শিকার হয়েছেন তিনি। 

  • অক্ষর প্যাটেল

রবি শাস্ত্রীর সময়কালে অবহেলিত আরেক ক্রিকেটার হলেন অলরাউন্ডার আক্সার প্যাটেল। সদ্য সমাপ্ত বোর্ডার – গাভাস্কার ট্রফিতে দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করলেও শাস্ত্রীর আমলে নিয়মিত সুযোগ পাননি এই তারকা।

জাতীয় দলে ২০১৪ সালে অভিষেক হলেও টেস্টে মাঠে নামতে আক্সারকে অপেক্ষা করতে হয়েছে সাত বছর। সাদা বলের ক্রিকেটেও ডাক পাননি নিয়মিত। ২০১৭ সালে আটটি ওডিয়াই খেলার পর দলের বাইরে ছিলেন টানা তিন বছর। টি-টোয়েন্টিতে তো আরো বাজে অবস্থা, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত খেলেছেন মোটে এক টি-টোয়েন্টি। 

  • পৃথ্বী শ

রবি শাস্ত্রীর অধীনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে  অভিষেক হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি ওপেনার পৃথ্বী শ। ২০১৮ সালের পর মোটে পাঁচটি টেস্টে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অথচ মাঠের পারফরম্যান্স মোটেই মন্দ নয় তাঁর, টেস্টে রান করেছেন ৪২.৩৭ গড়ে। 

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ বছর কেটে গেলেও মাত্র ছয় টি-টোয়েন্টি এবং একটি ওডিআই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীর সময়ে নিজের সামর্থ্য জানান দেবার কোনো সুযোগই পাননি এই তারকা ব্যাটসম্যান।

  • কেএস ভারত

২০১৯ সালে ভারত জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান কেএস ভরত। এরপর থেকে প্রতিটি সিরিজেই স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। সব সময় ঋদ্ধিমান সাহা কিংবা ঋষাভ পান্তের ছায়ায় থাকতে হয়েছে তাঁকে। 

তিন বছর বাদে অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে অভিষেক ঘটে ভরতের। অথচ আরো বেশ আগেই জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু রবি শাস্ত্রীর আমলে কখনোই মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...