ক্রিকেটের সবচেয়ে নিষ্ঠুর সংখ্যাটা শূন্য। আর সেই শূন্যই যখন পরপর তিনবার ফিরে আসে ছায়ার মতো, তখন সেটা আর দুর্ভাগ্য থাকে না- হয়ে ওঠে একজন ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে একাকী লড়াই। অস্ট্রেলিয়া সফরে লিটন দাসের সঙ্গে ঠিক সেটাই ঘটল। আর আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হল তাঁর টেম্পারমেন্ট, তাহলে কি লিটন বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নন?
গল্পের শুরু ডারউইনে, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ের সেই টেস্টে। দলের উৎসবের মধ্যেও একটা কাঁটার মতো বিঁধে ছিল লিটনের ব্যর্থতা- মাত্র ১২ বল টিকে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। কেউ তখনও ভাবেনি, এটাই হবে এক দুঃস্বপ্নের শুরু।
ম্যাকায়ে সেই দুঃস্বপ্নই পূর্ণতা পায়। মিশেল স্টার্কের গতির সামনে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৫ বল খেলে ফেরেন লিটন। আর দ্বিতীয় ইনিংসে, যেখানে দলের দরকার ছিল একজন অভিজ্ঞের প্রতিরোধ, সেখানেও ১০ বল খেলে আবার শূন্য। তিন ইনিংস, তিনবার শূন্য- একই দুঃস্বপ্ন ফিরে এলো ভিন্ন ভিন্ন মাঠে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে টানা ডাকের রেকর্ড অবশ্য নতুন নয়। রুবেল হোসেন আর সৈয়দ খালেদ আহমেদ দুজনেই টানা ৪ ইনিংসে শূন্য রানে ফেরার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু তারা ছিলেন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান।
লিটনের গল্পটা আলাদা- এক থেকে ছয় নম্বর পজিশনের প্রকৃত বা স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনিই বাংলাদেশের প্রথম, যিনি টানা তিন ইনিংসে খুলতে পারলেন না রানের খাতা। এর আগে ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল- লিটন সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেলেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে অবশ্য এই তালিকা আরও কঠিন। টপ-অর্ডার বা প্রকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টানা ৪ ডাকের বিরল কীর্তি আছে মাত্র তিনজনের- ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড সফরে ভারতের পঙ্কজ রায়, ১৯৯২ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে অস্ট্রেলিয়ার মার্ক ওয়াহ ,যাকে সতীর্থরা মজা করে ডাকতেন অডি, অডি গাড়ির ব্র্যান্ডের চার-শূন্যের লোগোর সঙ্গে মিলিয়ে, আর ২০২১ সালে গলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস। টেস্টে টানা সর্বোচ্চ ৫ ডাকের রেকর্ডও আছে, তবে সেটা বোলারদের দখলে- বব হোল্যান্ড, অজিত আগারকার আর মোহাম্মদ আসিফের।

অর্থাৎ লিটনের তিন ডাক এই এলিট তালিকার চূড়ায় ওঠেনি, তবে সেই তালিকার ঠিক নিচেই এসে দাঁড়িয়েছে- এমন এক জায়গায়, যেখানে বিশ্ব ক্রিকেটেও নাম আছে হাতে গোনা কয়েকজনের।
ক্রিকেট যদিও এমনই এক খেলা, যেখানে আজকের শূন্য আগামীকালের শতকের গল্প হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন এখন একটাই- এই শূন্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে লিটনের লাগবে কতদিন?











