ক্রিকেটে ইগোতে আঘাত লাগলে কী হয়, তার সবচেয়ে ভয়ংকর জবাব বোধহয় দিলেন মিশেল স্টার্ক নিজেই। ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ছোট্ট একটা ঘটনা। মিরাজ সিঙ্গেল নিতে দৌড়ে গিয়ে মাঝ পিচে ধাক্কা খান স্টার্কের সঙ্গে।
মেজাজ হারিয়ে স্টার্ক তখন তাকে শুনিয়ে দেন, বোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন, তখন পিচে দৌড়ানো নিয়ে স্টার্ক বিরক্ত হন এবং স্লেজিংয়ের সুরে তাকে বোঝাতে চান যে ‘এটা অস্ট্রেলিয়ার মাটি, এখানে চাইলেই আমাকে চোখ রাঙিয়ে যাওয়া যায় না’ মাঠের মধ্যেই ফুটে উঠেছিল সেই পুরনো অস্ট্রেলিয়ান আধিপত্যের সুর- যেন বলতে চাইছিলেন, এই মাটি তাদের, নিয়মটাও তাদেরই।
কিন্তু সেই টেস্টেই ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি, হাসান মাহমুদের ৯ উইকেট, মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের ইতিহাস বদলে দেয় বাংলাদেশ। যে মাঠে অস্ট্রেলিয়ানরা নিয়ম শেখাতে চেয়েছিল, সেই মাঠেই তাদের হারিয়ে দিল ‘নিয়ম না জানা’ সেই আন্ডারডগ দলটাই। জয়ের সেই আনন্দে ডারউইন যেন হয়ে উঠেছিল আরেক ঢাকা।

সেই হারের কাঁটাটা বোধহয় সবচেয়ে বেশি বিঁধেছিল স্টার্কের বুকেই। কারণ ইগোতে যখন আঘাত লাগে, তখনই জেগে ওঠে সবচেয়ে ভয়ংকর সংস্করণ- আর ম্যাকায়ে ঠিক সেটাই দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪০ মিনিটেই খেলার রঙ বদলে দেন স্টার্ক। ২২ বলের মধ্যে তুলে নেন বাংলাদেশের অর্ধেক ব্যাটিং লাইনআপ, শেষ পর্যন্ত ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেন মাত্র ৬৪ রানে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও থামেননি- আরও ৪ উইকেট নিয়ে সম্পূর্ণ করেন ম্যাচে ১০ উইকেটের কীর্তি। শেষ আট টেস্টে এটাই ছিল তার চতুর্থবার ছয় বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার ঘটনা। ম্যাচ সেরা তো হলেনই, সঙ্গে জিতে নিলেন সিরিজসেরার পুরস্কারও।
ডারউইনে যে মুখে বলেছিলেন ‘এটা তোমার বাংলাদেশ নয়’, ম্যাকাইয়ে সেই কথারই যেন সবচেয়ে নিষ্ঠুর ব্যাখ্যা দিলেন বল হাতে। একটা টেস্টে ইগোতে আঘাত লাগা, আর পরের টেস্টেই তার প্রতিশোধ নেওয়া- ক্রিকেট মাঠে ইগো আর পারফরম্যান্সের এই সমীকরণ যেন নতুন করে চেনালেন স্টার্ক। বিশ্ব দেখল, ইগোতে আঘাত লাগলে কিভাবে মিশেল স্টার্কের ভেতরের পাশবিক রূপটা বাইরে চলে আসে।












