২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার পর থেকেই গোলবন্যার যে জোয়ার দেখা গেছে, তা গত সাত দশকের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রত্যেক দলের এক ম্যাচ শেষে, তথা প্রথম ২৪টি ম্যাচে মোট গোল হয়েছে ৭৫টি যার ম্যাচপ্রতি গড় ৩.১২। ১৯৫৮ সালের পর গ্রুপপর্বের এমন আক্রমণাত্মক ফুটবলের নজির আর দেখা যায়নি।
মাঠের লড়াইয়ে সমানে সমান লড়াইয়ের চিত্রও ফুটে উঠেছে স্পষ্ট। ম্যাচগুলোর ৩৭.৫ শতাংশই শেষ হয়েছে ড্রয়ের মাধ্যমে, যা ২০১০ সালের পর সর্বোচ্চ।
টুর্নামেন্টের শুরুতেই গোলদাতার সিংহাসনে বসেছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক গোল করেন তিনি। সেই সুবাদে মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে বসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটাও দখল করেছেন।

মাঠের মাঝমাঠে সৃজনশীলতার আখ্যানে স্পেনের পেদ্রি এখন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পাঁচটি সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এক-তৃতীয়াংশ বল উদ্ধারে তাঁর দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সতীর্থদের গোলের জোগান দিতে জার্মানির জশুয়া কিমিখ এগিয়ে।
কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ৭-১ গোলের জয়ে তাঁর পা থেকেই এসেছে দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্ট। ড্রিবলিংয়ের ময়দানে আইভরি কোস্টের আমাদ ডিয়ালো মাত্র ৩৪ মিনিট মাঠে থেকে যেভাবে চমক দেখিয়েছেন, তাতে তাকে টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলার বলাই যায়।
কিন্তু ঠিক তার বিপরীত চিত্র ছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ক্ষেত্রে। যিনি নয় বার ড্রিবলিং এর চেষ্টা করেও একবারও প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পারেননি।

ব্যক্তিগত ডুয়েল বা শারীরিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ৯১ শতাংশ সফলতা নিয়ে সবচেয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন পানামার জিওভানি রামোস। তাঁর ঠিক পরেই অবস্থান সেনেগালের ক্রেপিন দিয়াটার।
গোলবন্যার রোমাঞ্চ আর ব্যক্তিগত দ্বৈরথের এই তীব্রতা জানান দিচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং পরিসংখ্যানের পাতায় নতুন অমরত্ব লিখে রাখার মঞ্চ।











