নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রাতটা শেষ হলো ১-১ এ। গ্যালারি ভর্তি, আলো ঝলমল, ম্যাচও জমজমাট — কিন্তু শেষ বাঁশির পর ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মুখে স্বস্তি ছিল না।
সমস্যার শুরু ডান প্রান্তে। নিয়মিত রাইটব্যাক ওয়েসলি চোটের কারণে নেই, তাই প্রশিক্ষক কার্লো আনচেলত্তি সেখানে নামালেন রজার ইবানেজকে। তিনি মূলত সেন্টারব্যাক, ডান দিকে খেলতে গিয়ে বারবার জায়গা ছেড়ে দিচ্ছিলেন। আর সেই ফাঁকা জায়গাটাই পুরো ম্যাচে ব্যবহার করেছেন আশরাফ হাকিমি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, ডাগআউটে অভিজ্ঞ দানিলো বসে থাকলেন, মাঠে নামলেন না।
মাঝমাঠেও একই ছবি। কাসেমিরো আর ব্রুনো গিমারায়েস বল ঘোরালেন ঠিকই, কিন্তু সামনে বাড়লেন না। লুকাস পাকেতা বল পেলেন অনেক দেরিতে, ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বারবার নিচে নেমে নিজেই বল আনতে হলো। সামনে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ, পেছনে শুধু পাস। মরক্কো তখন জমাট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, ব্রাজিল সেই দেয়াল ভাঙতে পারল না। প্রথমার্ধেই মরক্কো বারোটি শট নিল — এই সংখ্যাটাই বলে দেয়, খেলার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল।

২১ মিনিটে সেই চাপ থেকেই এগিয়ে গেল মরক্কো। সাইবারি আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল ভাসিয়ে জালে জড়ালেন। ব্রাজিল ফিরল ৩২ মিনিটে, ভিনিসিয়ুসের বাঁকানো শটে। গোলের পর ডাগআউট থেকে সবার আগে উঠে দাঁড়ালেন নেইমার — হাঁটুর চোটে খেলতে না পারলেও উদযাপনে পিছিয়ে ছিলেন না।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বল রাখল বেশি, মরক্কো একটিও শট নিতে পারল না। কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি হলো না। উল্টো শেষ দিকে দুবার দারুণ সেভ করতে হলো আলিসনকে।
এই ড্রটা শুধু এক পয়েন্ট হারানো নয়, ব্রাজিলের পুরনো রোগগুলো আবার সামনে আনার গল্প। ডান পাশে সঠিক খেলোয়াড় না রাখা, মাঝমাঠে সাহসের অভাব, শুরু থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে না ফেলা — ২৪ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে এসে আনচেলত্তির সামনে এই প্রশ্নগুলোই বড় হয়ে থাকল।

সামনে হাইতি, কাগজে-কলমে সহজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু এই ভুলগুলো না শোধরালে, নামে ব্রাজিল হলেও মাঠে প্রতিদিন নতুন করে প্রমাণ দিতে হবে — কেন তারা এখনও ফেভারিট।











